পাবনায় হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে টিকাদানকেন্দ্রগুলোতে ভিড় লেগেছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অভিভাবকরা শিশুদের নিয়ে টিকা নিতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছেন। নির্ধারিত সময়ে টিকা না পাওয়ায় অনেক শিশু আজও কেন্দ্রে এসেছে। কিছুদিন আগে টিকার ঘাটতি থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সেই ঘাটতি এখন পূরণ হয়েছে।

জেলা শহরে সবচেয়ে বেশি টিকা দেওয়া হয় পাবনা পৌরসভা টিকাদানকেন্দ্রে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রে দেখা গেছে, পৌরসভা ক্যাম্পাসের এক কোনায় এই কেন্দ্র অবস্থিত। একতলা ভবনের সামনে ত্রিপল টেনে টিকাদান চলছে। সমস্ত জায়গা মানুষে ভর্তি। ভ্যাপসা গরমে অভিভাবকরা শিশুদের কোলে নিয়ে টিকার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা না পাওয়া অনেকে আজ শিশুদের নিয়ে এসেছেন। ভিড় নিয়ন্ত্রণে টিকাদানকারীরা ছুটোছুটি করছেন।

শহরের শালগাড়িয়া মহল্লা থেকে খাইরুল ইসলাম তাঁর দুই বছরের ছেলে সুলতান মোহাম্মদকে নিয়ে হামের টিকা দিতে এসেছেন। তিনি জানান, ছেলের ১৫ মাস বয়সে নির্ধারিত সময়ে টিকাদানকেন্দ্রে এসেছিলেন, কিন্তু তখন হামের টিকা ছিল না। ১৭ মাস বয়সে দ্বিতীয়বার এসেও টিকা পাননি। টিকা আসার সংবাদ পেয়ে আজ আবার এসে ছেলেকে টিকা দিতে পেরেছেন।

গোবিন্দা মহল্লার সালেহা খাতুনও একই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনিও দুবার ফেরত গিয়ে আজ মেয়েকে টিকা দিয়েছেন। সালেহা খাতুন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘হাম নিয়ে খুব ভয়ে আছি। মেয়ে টিকা পাইছিল না, খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আজ টিকা পেয়ে শান্তি লাগছে।’ শিবরামপুর মহল্লার জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, তাঁর মেয়ের আজ পোলিও টিকার নির্ধারিত দিন ছিল। কিন্তু এখানে বলা হয়েছে, এই টিকা নেই। টিকা না পেয়ে তিনি মেয়েকে নিয়ে ফিরছেন।

টিকাদানকেন্দ্রের কর্মী শাহারা খাতুন বলেন, গত কয়েক মাসে মাঝেমধ্যে হামের টিকার ঘাটতি হচ্ছিল। এক মাস ধরে পোলিওর টিকা (ওপিভি) নেই। গতকাল বুধবার বিকেলে ২৬৪ ভায়াল হামের টিকা এসেছে, যা দিয়ে ১ হাজার ৩০০ শিশুকে টিকা দেওয়া যাবে। টিকা আসার খবরে আজ প্রথম দিন মাত্র দুই ঘণ্টায় প্রায় ১০০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। যে পরিমাণ টিকা আছে, তাতে আগামী দুই থেকে তিন দিন চলতে পারে।

পাবনা পৌরসভা টিকাদানকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক মাস হামের টিকা নিয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। ফলে অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা পায়নি। তবে এখন টিকা এসেছে, যা দিয়ে দুই থেকে চার দিন চালানো যাবে। এরপর আবার টিকা লাগবে। অন্যদিকে পোলিওর টিকা প্রায় নেই, অনেক শিশু ফিরে যাচ্ছে। এই টিকারও সরবরাহের প্রয়োজন রয়েছে। জেলায় হামে আক্রান্ত শিশু বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন রয়েছেন। তাঁরা টিকার জন্য টিকাদানকেন্দ্রে ভিড় করছেন। এই মুহূর্তে টিকার ঘাটতি হলে আমরাও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ব।’

এদিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত মোট ১৫৭ রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত ১১ দিনে ৫০ জন এবং গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৫ জন ভর্তি। নতুন ভর্তির মধ্যে ১৩ শিশু ও দুজন প্রাপ্তবয়স্ক। বর্তমানে হাসপাতালে ৪৩ জন চিকিৎসাধীন।

পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘হামে আক্রান্ত রোগী বাড়ায় টিকার চাপ বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে। আমাদের কাছে ২১ হাজার ৪৯০ ডোজ টিকা মজুত আছে। আগে টিকার যে ঘাটতি ছিল, এখন তা আর নেই। আগামী রোববার আবার টিকা আসার কথা রয়েছে। আশা করছি, টিকা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।’