জামালপুরের ঝাওলা গোপালপুরে পারিবারিক জটিলতার জেরে ছেলের শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা হামলা চালিয়ে আবদুল হাকিম (৫০)-কে খুন করেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ছেলের শ্বশুরসহ ছয়জনকে পুলিশ আটক করেছে।
গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার এই এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নিহত আবদুল হাকিমও এখানকার বাসিন্দা। তাঁর এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ছেলে মোহাম্মদ শামীম মিয়া ময়মনসিংহের ভালুকা মাস্টারবাড়ি এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করে এবং স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে থাকতেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সূত্র জানায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে সদর উপজেলার নরুন্দি কচুনধরা এলাকার কাদিউর রহমানের মেয়ে কামরুন নাহারের সঙ্গে শামীম মিয়ার বিয়ে হয়। কিন্তু দম্পতি মিল রাখতে না পেরে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গতকাল রাতে আবদুল হাকিমের বাড়িতে সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকে এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে এবং কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
এ সময় শামীমের শ্বশুর ও তাঁর স্বজনরা আবদুল হাকিমের ওপর হামলা চালায়। তিনি মারধরে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করে।
আবদুল হাকিমের ভাতিজা নয়ন মিয়া মুক্তকণ্ঠকে বলেন, গত মাসে একাধিকবার স্ত্রীর সঙ্গে শামীমের দাম্পত্য কলহ হয়। ঈদের আগের দিন শামীম গ্রামের বাড়িতে এলেও তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহার মাঝপথ থেকে বাবার বাড়িতে চলে যান। ঈদের পর কর্মস্থলে ফিরে গেলে সেখানে তাঁদের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়। ঈদের সময় মা-বাবা ও বোনের জন্য কেনাকাটা করায় শামীমের সঙ্গে মূলত এই বিরোধ তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে স্ত্রীকে আবার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন শামীম। পরে তাঁর স্ত্রী বাবার বাড়িতে খবর দিয়ে লোকজন ডেকে আনেন।
হামলার বিষয়ে নয়ন মিয়া বলেন, ‘গতকাল শামীমের শ্বশুরবাড়ি থেকে ১০-১২ জন লোক আমাদের বাড়িতে আসেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চাচা, চাচি ও চাচাতো বোনের ওপর হামলা চালান। এতে গুরুতর আহত হয়ে চাচা আবদুল হাকিম মারা যান।’
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য আবদুল হাকিমের মরদেহ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।






