চৈত্র মাসে সাধারণত কাঠফাটা রোদ পড়ে এবং তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। কিন্তু পঞ্চগড়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালে এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে। সেখানে ঘন কুয়াশার মতো আবহাওয়া চোখে পড়েছে, যা স্থানীয়দের বিস্মিত করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শীতকালে পঞ্চগড়ে ঘন কুয়াশা দেখা গেলেও চৈত্র মাসে এমন দৃশ্য অস্বাভাবিক। সকালব্যাপী রাস্তাঘাট, ফসলের মাঠ এবং গাছপালা সাদা আস্তরণে ঢেকে গেছে। অনেকে এটাকে ‘অকাল কুয়াশা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
আবহাওয়াবিদরা এটাকে ‘স্টিম ফগ’ বা ‘বাষ্পীয় কুয়াশা’ বলছেন। দখিনা বাতাস, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা, দিন-রাতের তাপমাত্রা পার্থক্য এবং হঠাৎ বৃষ্টিকে এর প্রধান কারণ হিসেবে তাঁরা চিহ্নিত করেছেন।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তখন বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। গত এক সপ্তাহে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে। এ সময় মাঝেমধ্যে বৃষ্টিও হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া বাষ্পীয় কুয়াশা আজ সকাল পর্যন্ত ছিল; সকাল ৮টার পর সূর্য দেখা দিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চগড় পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, শীতের মতো ঘন কুয়াশায় চারপাশ ঢাকা। কোথাও কোথাও ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মতো শিশিরে পিচের সড়ক ভিজেছে। প্রয়োজনীয় কাজে বের হয়েছেন অনেকে; কারও গায়ে হালকা শীতের পোশাক, কারও স্বাভাবিক পোশাক। কুয়াশার জন্য মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যান চলেছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার গোফাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সপিজুল ইসলাম (৬১) বলেন, ‘আজি সকালে উঠে দেখেচু, কুয়াশাতে সাদা হয় গেইছে। আগের দিনের বুড়া-বুড়িলা (বয়স্করা) কহিচে (বলেছে), চৈতে কুয়াশা হইলে বৈশাখে বান (বন্যা) হয়। এইবার যে কী হয় বাপু, আল্লাহয় জানে।’
সকালে হাঁটতে বের হয়েছিলেন আবদুর রাজ্জাক (৬০)। তিনি বলেন, ‘চৈত্র মাসে এ রকম কুয়াশা আগে দেখিনি। কুয়াশাতে কাপড় ভিজে যাচ্ছে। কিন্তু খুব বেশি শীত অনুভূত হয় না। কেমন জানি আজব আবহাওয়া।’
এ ধরনের আবহাওয়ায় স্বাস্থ্যসচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন তাঁরা। জেলার সিভিল সার্জন মিজানুর রহমান বলেন, অসময়ে এ ধরনের কুয়াশায় জলীয় বাষ্পের সঙ্গে প্রচুর ধুলাবালু থাকে। যেগুলো মানুষের শ্বাসনালিতে প্রবেশ করলে শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। এ ছাড়া ঠান্ডা-গরমের তারতম্যের কারণেও অনেকের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ জন্য মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, জলীয় বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত হওয়ার কারণে মূলত এমন আবহাওয়া চোখে পড়ে। মৌসুমি বায়ু যখন সক্রিয় হয়ে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি এসে শীতলতার সংস্পর্শে আসে, ঠিক তখন জলীয় বাষ্প জমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয়। এতেই এ ধরনের কুয়াশা দেখা দেয়।






