পাথুম থানির থামাসাত স্টেডিয়ামে এএফসি অনূর্ধ্ব–২০ নারী ফুটবলের চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রথম ম্যাচে দুই গোলে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ৩-২ গোলের ব্যবধানে থাইল্যান্ডের কাছে হেরে গেছে। মোসাম্মত সাগরিকা দুটি গোল করে ম্যাচের হিরো হয়ে উঠলেও শেষ মুহূর্তে পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। শনিবার গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে চীনের সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশ।
থাইল্যান্ডের কাছে এই হার মেনে নিতে কষ্ট হলেও প্রতিপক্ষের অভিজ্ঞতা এবং শক্তির কথা মনে রাখলে হতাশা কমবে। এটি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ নারী দলের প্রথমবার এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্যায়ে অংশগ্রহণ। অন্যদিকে, থাইল্যান্ড ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপে খেলেছে এবং এই প্রতিযোগিতায় অষ্টমবার অংশ নিচ্ছে।
ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশ ভালো খেলতে পারেনি। প্রথম ২০ মিনিট শুধু থাইল্যান্ডের আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করে মাঠে ছিল বাংলাদেশ। মিডফিল্ডে স্বপ্না রানী ও শান্তি মার্ডিরা বারবার বল হারিয়েছেন। ২৬ মিনিটে কোচ পিটার বাটলার স্বপ্নাকে বাদ দিয়ে পূজা দাসকে নামান। এই পরিবর্তন রক্ষণকে মজবুত করে এবং মিডফিল্ডে নতুন কৌশল যোগায়। পূজা নামার পর সুরমা জান্নাত ও সৌরভী আফরিনও মাঝমাঠে সাহায্য করেন।
থাইল্যান্ড তবু আক্রমণী হাইলাইন ডিফেন্স কৌশল নিয়ে চাপ বাড়ায়। ২৮ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে কুরিসারা লিম্পাওয়ানিচের শট মিলি আক্তার ধরে ফেলেন। ৩৬ মিনিটে মৌমিতা খাতুনের পাসে সাগরিকা বক্সে ঢুকে গোল করেন। বিরতির আগে থাইল্যান্ড দুবার আক্রমণ করে হুমকি তৈরি করলেও গোল হয়নি। তাই ১-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে ৫০ মিনিটে উমহেলা মারমারের পাসে সাগরিকা দ্বিতীয় গোলটি করেন। থাইল্যান্ড দমে যায়নি। ৫৭ মিনিটে ফ্রি-কিক এবং ৬৭ মিনিটে আক্রমণ মিলি আক্তার নস্যিৎ করেন। পুরো ম্যাচে অসংখ্য শট রক্ষা করেন তিনি। কিন্তু ৬৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে কুরিসারা গোল ফিরিয়ে আনেন।
৭৫ মিনিটে নবীরণ খাতুনের ফাউলের জন্য আরেক পেনাল্টি পায় থাইল্যান্ড, রিন্যাফাত মুনডং সমতা আনেন। ৭৯ মিনিটে পিচায়াটিদা মানোওয়াং বাংলাদেশের এলোমেলো রক্ষণের সুযোগে তৃতীয় গোল করেন। বাকি সময়ে ফিরতে না পেরে হার মেনেছে বাংলাদেশ।






