৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইতালির অনুপস্থিতি সত্যিই বিস্ময়কর। গতকাল রাতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে পরাজয়ে টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ বাছাই থেকে বঞ্চিত হয়েছে ইতালি। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এই দলের বিদায় শুধু ইতালিয়ানদের নয়, আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিকেও গভীরভাবে আঘাত করেছে।

ইতালিকে আর্জেন্টিনার ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ বলে অভিহিত করে স্কালোনি জানান, ইতালির বিশ্বকাপে না খেলাটা দুঃখজনক। আর্জেন্টাইনরা চায় না ইতালি বিশ্বকাপে না থাকুক। আজ বুয়েনস এয়ারেসে জাম্বিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৫–০ গোলের জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনটি আর্জেন্টিনার ম্যাচ নিয়ে হলেও স্কালোনির ইতালির সঙ্গে সংযোগ থাকায় এক সাংবাদিক তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। বিশ্বকাপজয়ী এই কোচের জন্ম আর্জেন্টিনায়, কিন্তু তাঁর পূর্বপুরুষ ইতালিয়ান। স্কালোনি খেলোয়াড়ি জীবনে আট বছর কাটিয়েছেন সিরি আ'র ক্লাব লাৎসিও আতালান্তায়।

পারিবারিক শিকড় ও নিজের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত ইতালির ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া নিয়ে তিনি বলেন, “আমার দাদা-দাদি এবং পরদাদা ওখানকার মানুষ ছিলেন। এটি (বিশ্বকাপ খেলতে না পারা) আমাকে দুঃখ দেয়। সেখানে আমি খেলেছি, পাশাপাশি দেশটি আর্জেন্টিনার একটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ, যারা আমাদের অনেক ভালোবাসে।”

চারবার বিশ্বকাপ জয়ী ইতালি এবারের আগে ২০১৮ ও ২০২২ আসরেও বাছাইপর্ব কাটাতে পারেনি। বিশ্ব ফুটবলে ইতালির গুরুত্ব তুলে ধরে স্কালোনি বলেন, “তারা ফুটবল–বিশ্বের অন্যতম বড় শক্তি। আর্জেন্টাইন হিসেবে আমরা চাই না যে ইতালি বিশ্বকাপের মতো আসরে না থাকুক।”

বসনিয়ার মাঠে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় প্লে–অফ ফাইনালে প্রথম গোল করল ইতালি। কিন্তু একটি লাল কার্ডে ১০ জনের দলে সীমাবদ্ধ হওয়ার পর বসনিয়া সমতা আনে এবং টাইব্রেকারে ৪–১ গোলে ইতালিকে হারায়।

হারের ধরনের কারণে ইতালির প্রতি দুঃখ বেশি লাগছে জানিয়ে স্কালোনি বলেন, “যেভাবে বাদ পড়েছে, সেটা বেশি বেদনাদায়ক। হারটা খুব কঠিন ও নিষ্ঠুর ছিল। একসময় দলটা ১০ জনের হয়ে গেল, আবার খেলছিল প্রতিপক্ষের মাঠে। যখন পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে না, তখন টিকে থাকা খুব কঠিন হয়ে যায়। আর লড়তেও হয়েছে একটা ভালো দলের বিপক্ষে। সব মিলিয়ে বিষয়টি সত্যিই খুব কষ্টের।”