পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকাংশ ঝিরি-ঝরনায় শীতকালে পানি কমে যায় এবং গ্রীষ্মে প্রায় শুকিয়ে যায়। এ কারণে পাহাড়ের দুর্গম অঞ্চলের অনেক বাসিন্দা পানির সংকটে ভুগছেন, কেউ কেউ পাড়া ছেড়ে চলে যান। বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন, সঠিক উদ্যোগ নিলে এসব ঝরনার শুকিয়ে যাওয়া ঠেকানো এবং প্রাণ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

আজ সকালে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার কাঙেরি মা ছড়া গ্রামে এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এখানে গ্রামবাসীদের ঝরনা রক্ষা ও পুনরুদ্ধারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। উন্নয়ন সংস্থা তৃণমূলের উদ্যোগে হেলভেটাস বাংলাদেশের অর্থায়নে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা বলেন, খাগড়াছড়িতে একসময় সবুজ প্রকৃতি, গাছপালা, ঝিরি-ঝরনা ও বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য ছিল। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অবিচারে বৃক্ষনিধনের ফলে পাহাড়ে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাসিন্দাদের চার-পাঁচ কিলোমিটার পথ হেঁটে সুপেয় পানির খোঁজ করতে হয়।

পাহাড়ি পানির সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা ঝরনা এলাকায় বট, পাকুড় জাতীয় গাছ রোপণের উপর জোর দেন, যাতে পানি ধরে রাখা যায়। এসব গাছের চারা সরাসরি বীজ থেকে পাওয়া যায় না, বরং পাখির ফেলে যাওয়া বীজ থেকে জন্মানো চারা সংগ্রহ করে লাগানোর পরামর্শ দেন তাঁরা। এছাড়া জলায় সৃষ্টি করে তা সংরক্ষণের উপায়ও জানান।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রশিক্ষক ছিলেন দীঘিনালা মেরুং রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জাফর উল্লাহ, দীঘিনালা কৃষি বিভাগের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান এবং হেলভেটাসের মাঠ সমন্বয়কারী দীপ্তিময় চাকমা। এতে অংশগ্রহণ করেন কাঙেরি মা ছড়া গ্রামের বাসিন্দা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।