মেহেরপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ শালিকা গ্রামে পুলিশের অভিযানে অবৈধভাবে মজুত ৫ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ হয়েছে। এ ঘটনায় ‘ফারাবি ট্রেডার্স’–এর স্বত্বাধিকারী আবু সুফিয়ানকে (৪০) আটক করে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বুড়িপোাঁতা ইউনিয়নের দক্ষিণ শালিকা গ্রামে আবু সুফিয়ানের বাড়িতে মেহেরপুর সদর থানার পুলিশ অভিযান চালায়। স্থানীয় সুরত আলীর ছেলে আবু সুফিয়ান স্থানীয় বাজারে সার, কীটনাশক ও ডিজেলের খুচরা বিক্রেতা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবু সুফিয়ান দীর্ঘদিন ধরে সার, কীটনাশক ও ডিজেল বিক্রি করে আসছেন। নিয়মিত তার দোকানে ডিজেলবাহী গাড়ি তেল দিতে আসে। এলাকার কৃষকেরা সেচকাজের জন্য তার কাছ থেকেই ডিজেল কিনেন। তবে হঠাৎ পুলিশ এসে তাকে ও জ্বালানি তেল নিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা অবাক হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে আবু সুফিয়ানের প্রতিষ্ঠান থেকে ২৭টি ব্যারেলে সংরক্ষিত প্রায় ৫ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার হয়। অভিযানের সময় তিনি জ্বালানি মজুত বা কেনাবেচার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

আটক আবু সুফিয়ান দাবি করেছেন, তিনি অবৈধ মজুতদার নন। কৃষি মৌসুমে কৃষকদের চাহিদা মেটানোর জন্য এবং নিয়মিত ব্যবসার অংশ হিসেবেই এই তেল সংগ্রহ করেছিলেন। তবে যথাযথ লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র কেন তার কাছে ছিল না, সে বিষয়ে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

এর আগে গতকাল দুপুরে একই ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে জেলা প্রশাসনের অভিযানে মোয়াজ্জেম হোসেন নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে ৮০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধেও সদর থানায় অবৈধ মজুতের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তি অধিক মুনাফার আশায় অবৈধভাবে এই জ্বালানি তেল মজুত করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং আজ বুধবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং অবৈধ মজুতদারদের রুখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান ওসি।