সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শেষে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তাঁর ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের ভালোবাসা তাঁর পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। খালেদা জিয়া নামটি মানুষের কাছে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা তিনি উপলব্ধি করতে পারছেন।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে একটি পোস্ট দেন তারেক রহমান।
তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৭৯ বছর বয়সে গত ৩০ ডিসেম্বর মারা যান। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে ঐক্য ও সংহতির প্রতীক হিসেবে তাঁকে দেখা হতো।
লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শেষে গত ৩১ ডিসেম্বর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে খালেদা জিয়াকে সমাহিত করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক সমাপ্তির পর দেওয়া পোস্টে তারেক রহমান লিখেছেন, এই সময় দেশজুড়ে এবং বিদেশে অবস্থানরত শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ভালোবাসা, সমবেদনা ও দোয়া তাঁর পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘এই তিন দিনে আমরা আরও উপলব্ধি করেছি, আমার মা ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন; অনেক ক্ষেত্রে তা ছিল এতটাই অর্থবহ, যা হয়তো আমরা নিজেরাও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারিনি। অনেকের কাছে তিনি ছিলেন আপসহীনতার প্রতীক; নিজের বিশ্বাসের পক্ষে সাহসের সঙ্গে দাঁড়ানোর অটল প্রেরণা। রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে এই প্রেরণা বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে; পরিচয়, আদর্শ ও অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে অগণিত মানুষকে স্পর্শ করেছে।’
তারেক রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের নেতৃত্ব ও দ্রুত সমন্বয়ের কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যে এই বিরল ও সম্মানজনক অন্তিম আয়োজন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোয় প্রতিবেশী ও বন্ধুরাষ্ট্রগুলো, দেশ-বিদেশের নেতা, কূটনীতিক এবং বিশ্বের নানা প্রান্তের অংশীদারদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সহমর্মিতা ও সংহতি আমাদের হৃদয়কে গভীরভাবে আলোড়িত করেছে। জানাজায় বিভিন্ন দেশের সম্মানিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি, সমবেদনার চিঠি ও বার্তা, শোকবইয়ে লেখা কথা, সামাজিক মাধ্যমে অগণিত অনুভূতির প্রকাশ, বাংলাদেশে অবস্থিত মিশন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি—এই প্রতিটি সম্মাননাই ছিল অভূতপূর্ব।’
সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসন ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান লিখেছেন, ‘মায়ের শেষবিদায়ে আপনাদের দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি জিয়া পরিবারকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।’
সম্মানসূচক গার্ড অব অনার ও শেষ সালাম দেওয়ার কথা স্মরণ করে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারেক রহমান।
দেশের জনগণকে অভিবাদন জানিয়ে তারেক রহমান লিখেছেন, ‘দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে এত মানুষের সমবেত হয়ে দেশনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দৃশ্য আমাদের পরিবার কখনোই ভুলবে না। এই শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি গণমানুষের সহমর্মিতা ও মানবিক আবেগেরই প্রতিফলন। আমাদের পরিবার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে শোক ও স্মরণের এই সময়ে যাঁরা আমাদের পাশে ছিলেন, তাঁদের সবাইকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সংহতি আমাদের সান্ত্বনা ও শক্তি জুগিয়েছে, আর আমরা তা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আগামীর বাংলাদেশে বয়ে নিয়ে চলব।’






