উয়েফা ২০২৮ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে টিকিটের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে ফুটবলপ্রেমীরা যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামের একটি পার্কিং স্পটের জন্য যে দাম দিতে হবে, সেই টাকায় ২০২৮ ইউরোর পাঁচটি টিকিট কেনা সম্ভব। মেক্সিকো ও কানাডা এবার বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক।
ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্ট। এখানে মোট টিকিটের ৪০ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে সাশ্রয়ী ‘ফ্যানস ফার্স্ট’ ক্যাটাগরির জন্য। ২০২৪ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ইউরোতে গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম ছিল ৩০ ও ৬০ ইউরো। ২০২৮ ইউরোতে এই দামগুলো যথাক্রমে ৩০ (৩৪ ইউরো) এবং ৬০ (৬৯ ইউরো) পাউন্ডের নিচে রাখার লক্ষ্য নিয়েছে উয়েফা।
টুর্নামেন্টে চারটি ক্যাটাগরির টিকিট থাকবে। এছাড়া সীমিত ‘ভিআইপি প্লাস’ টিকিট রাখা হবে, যার আয় সাধারণ দর্শকদের টিকিটের দাম স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে। ২০২৪ ইউরোতে উচ্চমূল্যের ক্যাটাগরির টিকিটের দাম ছিল ১৫০ ও ২০০ ইউরো। ২০২৮-এ এই টিকিটগুলোর চূড়ান্ত দাম এখনো ঘোষণা হয়নি।
উয়েফার এই সাশ্রয়ী নীতি ফিফার বিতর্কিত কৌশলের সম্পূর্ণ উল্টো। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হওয়া বিশ্বকাপের টিকিটের দাম নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। সেখানে ইংল্যান্ডের গ্রুপ ম্যাচের সর্বনিম্ন টিকিটের প্রাথমিক দাম ২২০ ডলার এবং সর্বোচ্চ ৭০০ ডলার। পরিস্থিতি এমন যে ২০২৮ ইউরোর গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ দেখার খরচ বিশ্বকাপের একটি ‘ক্যাটাগরি-৩’ টিকিটের চেয়ে কম হতে পারে। তবে চাপের মুখে ফিফা কিছুটা সরে এসেছে। তারা ১০৪টি ম্যাচের প্রতিটিতে সীমিত টিকিট ৬০ ডলারে (৪৫ পাউন্ড) বিক্রি করবে।
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ম্যাচের পার্কিংয়ের গড় খরচ ১৭৫ ডলার। নিউইয়র্কের কাছে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গ্রুপ ম্যাচের পার্কিং ফি ২২৫ ডলার।
২০২৮ ইউরোতে প্রতি দেশের গ্রুপ ম্যাচে ১০ হাজার টিকিট বরাদ্দ করেছে উয়েফা। কিন্তু বিশ্বকাপে বড় স্টেডিয়াম সত্ত্বেও ফিফা প্রতি জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনের জন্য ৪ হাজারের কম টিকিট দিয়েছে। ফিফার ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ নীতিতে চাহিদা বাড়লে দামও বাড়ছে। আগামী বুধবার তারা বিশ্বকাপের শেষ কিস্তির টিকিট ছাড়বে। কিন্তু ইউরোতে এমন নীতি নেই। উয়েফা বলেছে, মোট টিকিটের প্রায় অর্ধেক সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় থাকবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দর্শকদের টিকিট নিয়েও বিতর্ক। বিশ্বকাপে তাঁদের পুরো দাম দিতে হয়, সহকারীর জন্য ফ্রি টিকিট নেই। কিন্তু ২০২৮ ইউরোতে তারা সর্বনিম্ন ক্যাটাগরির টিকিট পাবেন এবং সহকারীর জন্য সৌজন্য টিকিট।
টিকিট পুনর্বিক্রয়েও পার্থক্য। ইউরোতে লেখা দামেই পুনর্বিক্রয় সম্ভব। কিন্তু বিশ্বকাপে ‘সেকেন্ডারি মার্কেটে’ উচ্চদামে বিক্রি হচ্ছে, যেখানে ফিফা ক্রেতা-বিক্রেতা থেকে ১৫ শতাংশ করে মোট ৩০ শতাংশ কমিশন নিচ্ছে।
২০২৮ ইউরোর পূর্ণ তালিকা ও বিক্রির তারিখ ২০২৭ সালের মাঝামাঝি জানানো হবে। একই বছরের ডিসেম্বরে ড্রয়ের পর প্রথম দফা বিক্রি শুরু। নকআউট পর্বে দাম বাড়বে, তবে বিশ্বকাপের মতো আকাশছোঁয়া নয়। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্বকাপে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সাপোর্টার ভ্যালু টিকিট ৩ হাজার ১১৯ পাউন্ড, যেখানে ২০২৪ ইউরোতে একই ক্যাটাগরি ৮২.৫০ পাউন্ড ছিল।






