তিনটি মামলায় সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনের আগাম জামিনের পৃথক আবেদন হাইকোর্ট ফেরত দিয়েছে। তাঁর আইনজীবীর অনুরোধের ভিত্তিতে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. তৌফিক ইনামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার আবেদনগুলো কার্যতালিকা থেকে ডিলিট করে আদেশ জারি করেন।

আইনজীবীর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনায় হত্যার অভিযোগে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ঘিরে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে শাহবাগ থানায় দুটি মামলায় গত রোববার আমিন উদ্দিন হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে তিনটি আবেদন দায়ের করেন।

আজকের কার্যতালিকায় আবেদনগুলো ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী ও ইউসুফ খান রাজীব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

জুলাই-আগস্টের ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় ১৬০ জনের বেশি আইনজীবীর বিরুদ্ধে ওই হত্যা মামলা করা হয় বলে জানান আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় শাহবাগ থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়। এই তিন মামলায় আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। আগাম জামিন আবেদন শুনানির সময় আবেদনকারীকে উপস্থিত থাকতে হয়। তবে জামিন আবেদন ঘিরে একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক আইনজীবীরা আদালত প্রাঙ্গণে মিছিল করেন, মব সৃষ্টির শঙ্কাও দেখা দেয়। এ অবস্থায় নিজের ও আইনজীবীর নিরাপত্তা এবং আদালতের ভাবমূর্তি বিবেচনায় আদালতে হাজির হননি আবেদনকারী। তাই জামিন আবেদন ফেরত নেওয়ার আরজি জানানো হয়। আদালত আবেদনগুলো ফেরত দিয়ে কার্যতালিকা থেকে ডিলিট করে দিয়েছেন।

২০২০ সালের ৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির তৎকালীন সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিনকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দেশের ১৬তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে একই বছরের ১১ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। ছাত্র ও জনতার আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বরাবরে ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট অব্যাহতিপত্র দেন এ এম আমিন উদ্দিন।