আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই, সেখান থেকেই তৈরি হবে ভবিষ্যতের জ্বালানি। মাটির নিচের তেল খনির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এই বৈপজ্জনিক ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করছে জাপানের জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এনিওস করপোরেশন। তারা ইতিমধ্যে ইয়োকোহামা ডেমোনস্ট্রেশন প্ল্যান্টে বাতাস থেকে সংগ্রহিত কার্বন ডাই–অক্সাইড ও হাইড্রোজেন ব্যবহার করে পরীক্ষামূলক কৃত্রিম জ্বালানি উৎপাদন করেছে।

এনিওস করপোরেশনের বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়ায় মূলত বায়ুমণ্ডলের কার্বন ব্যবহার করেছেন, মাটির নিচ থেকে নতুন কার্বন উত্তোলন না করে। প্রথমে বাতাস বা শিল্পকারখানার নির্গমন থেকে কার্বন ডাই–অক্সাইড সংগ্রহ করা হয়। তারপর নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ দিয়ে ইলেকট্রোলাইসিস প্রক্রিয়ায় পানি ভেঙে হাইড্রোজেন তৈরি করা হয়। অবশেষে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কার্বন ও হাইড্রোজেনকে তরল হাইড্রোকার্বনে রূপান্তরিত করে কৃত্রিম ডিজেল বা এভিয়েশন ফুয়েল (জেট জ্বালানি) পাওয়া যায়। এই জ্বালানির গুণমান প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির মতোই, তাই গাড়ির ইঞ্জিন, পাইপলাইন বা অবকাঠামোতে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই ব্যবহারযোগ্য।

এই কৃত্রিম জ্বালানি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ দিয়েই সমাধানযোগ্য নয় এমন সমস্যার সমাধান দিতে পারে। পরিবহন খাতে বৈদ্যুতিক যানবাহন জনপ্রিয় হলেও বিমান, জাহাজ বা ভারী শিল্পে বৈদ্যুতিকরণ খুবই কঠিন। ফলে তরল জ্বালানির চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। জাপানের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি-বিহীন দেশগুলোর জন্য এটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয়, কারণ তারা সম্পূর্ণ আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

ইয়োকোহামা প্ল্যান্টে প্রতিদিন মাত্র এক ব্যারেল জ্বালানি উৎপাদিত হয়। ২০৪০ সালের মধ্যে দৈনিক ১০ হাজার ব্যারেল উৎপাদনের লক্ষ্য রাখলেও এটি অর্জন করা চ্যালেঞ্জিং। প্রযুক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতিময় হলেও শিল্প পর্যায়ে পৌঁছাতে এখনও অনেক সময় লাগবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া