১৫ বছর বয়সী ভারতীয় ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীর আওয়াজ দিন দিন জোরালো হচ্ছে। গত আইপিএলে ভারতীয় খেলোয়াড় হিসেবে দ্রুততম সেঞ্চুরি (৩৫ বলে) গড়ে সূর্যবংশী এবারের আইপিএল শুরু করেছেন ১৭ বলে ৫২ রানের ঝড় তোলা ইনিংস খেলে।

গতকাল রাতে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচেই তিনি ১৫ বলে ফিফটি করে নিয়েছেন। এতে ভারতের জাতীয় দলে তাঁর ডাক পাওয়ার আলোচনা আরও উত্তপ্ত হয়েছে। গত সপ্তাহে তাঁর বয়স ১৫ ছাড়িয়ে গেছে। ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় আইসিসির নিয়ম অনুসারে এখন ভারতের মূল দলে খেলার পথে কোনো বাধা নেই।

ভারতের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে টেস্ট অভিষেকের রেকর্ড এখনো শচীন টেন্ডুলকারের নামে। ১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে করাচিতে টেস্টে অভিষেকের দিন টেন্ডুলকারের বয়স ছিল ১৬ বছর ২০৫ দিন। সেই রেকর্ড ভাঙার হুমকি দিতে শুরু করেছেন সূর্যবংশী। তাঁর হাতে এর জন্য প্রচুর সময়ও আছে। তা এখনই কি তাঁকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাম দেওয়া উচিত?

অনিল কুম্বলে কোনো সমস্যা দেখছেন না। কাল জিওস্টারে ভারতের সাবেক লেগ স্পিনার বলেছেন, “অবশ্যই। কোনো খেলোয়াড় যদি এই পর্যায়ের ধারাবাহিকতা দেখায়, তবে শচীন টেন্ডুলকারের মতোই তাকে দ্রুত জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়া উচিত।”

সাবেক ভারতীয় ব্যাটসম্যান আম্বাতি রাইডু ক্রিকেট পোর্টাল ইএসপিএনক্রিকইনফোকে বলেছেন, “দেশের অনেক তরুণের চেয়ে ও আলাদা। সূর্যবংশীর প্রতিভা নিশ্চিতভাবে বিস্ময় জাগাবে। আমি জানি না কবে, তবে ভবিষ্যতে অবশ্যই ও বড় কিছু করবে।”

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে সূর্যবংশী ভারতের হয়ে ইতিমধ্যে বড় কিছু করে দেখিয়েছেন। গত মাসে হারারেতে অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে প্রায় সব ম্যাচেই রান করেছেন। তবে সেরাটা রেখেছিলেন ফাইনালের জন্য। ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন ৮০ বলে ১৭৫ রানের রেকর্ড গড়া ইনিংস। ফাইনালে ম্যাচসেরা তো হয়েছেনই, সঙ্গে পেয়েছেন টুর্নামেন্ট–সেরার স্বীকৃতিও।

এত কম বয়সে এমন খেললে তাঁকে নিয়ে হইচই হবেই। সূর্যবংশীকে নিয়েও তা হচ্ছে। সমর্থক থেকে মিডিয়া—সবাই তাঁর প্রতি বাড়তি আগ্রহী। এসব থেকে তাঁকে আগলে রাখার কাজ করছে তাঁর আইপিএল দল রাজস্থান রয়্যালস।

অধিনায়ক রায়ান পরাগ সবাইকে জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি ওকে বলেছি, যা–ই হোক না কেন, তুমি ১৪ ম্যাচেই খেলবে। মিডিয়াতে কী হচ্ছে, তা নিয়ে তুমি ঘামাবে না।” কালকের ইনিংস নিয়ে তিনি বলেছেন, “দর্শকদের মতো আমরাও অবাক হয়ে ভাবি, ও কীভাবে এটা করতে পারে। বিশেষ প্রতিভা। আমি খুশি যে ওর মতো প্রতিভা আমাদের দলে আছে, প্রতিপক্ষ দলে নয়।”

সূর্যবংশী নিজেও হয়তো একটু আড়ালে থাকতে চান। ২৭ মার্চ ১৫তম জন্মদিন পার হয়েছে। সেদিন কী করেছেন, প্রশ্ন করায় জানিয়েছেন, মুখে কেক মাখামাখি এড়াতে দ্রুতই ঘুমিয়ে গিয়েছিলেন। এবারের আইপিএলে প্রথম ম্যাচেই ঝড় তোলা নিয়ে বলেছেন, “পাওয়ারপ্লেতে বড় শট খেলার পরিকল্পনা ছিল। আমি রক্ষণাত্মক খেলার কথাও ভাবি, তবে যেহেতু আমরা ওদের অল্প রানে আটকে দিয়েছিলাম, তাই পরিকল্পনা ছিল পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেলা।”

সেটা তিনি করে দেখিয়েছেনও। কাল প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার সময় রাজস্থানের রান ছিল ৬.২ ওভারে ৭৫। চেন্নাইয়ের দেওয়া ১২৮ রানের লক্ষ্য ছোঁয়া তখন আর কোনো ব্যাপার ছিল না!