চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ডিজেলের অভাবে ধনাগোদা নদীতে ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকার চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। ফলে মাছের বাজারে সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে এবং দাম বেড়েছে।
কয়েকদিন ধরে এই সংকট চলছে। একাধিক মৎস্যজীবী বলছেন, জ্বালানি তেলের সমস্যা না থামলে ট্রলার-নৌকায় মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে তাঁদের পরিবার নিয়ে দিনরাত দুশ্চিন্তায় থাকা ছাড়া আর উপায় নেই।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্র জানায়, এখানে কার্ডধারী জেলে ৯ হাজার ১০০ জন। পাইকারি-খুচরা বিক্রেতাসহ মোট মৎস্যজীবী প্রায় ৯ হাজার ৬০০ জন।
গতকাল সোমবার উপজেলার বেলতলী, কালিরবাজার, ইসলামাবাদ, চরপাথালিয়া, ফরাজীকান্দি, গাজীপুর, ফতেপুর, দুর্গাপুর, নন্দলালপুর, আমিরাবাদ ও চরমাছুয়া এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ধনাগোদা নদীর তীরে কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা-ট্রলার বাঁধা আছে। জেলেরা নৌকার উপর বা চারপাশে অলস হয়ে সময় কাটাচ্ছেন। নদীতে তেমন কোনো ট্রলার বা নৌকা দেখা যায়নি।
উপজেলার বেলতলী এলাকার জেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ডিজেল–সংকটে দুই সপ্তাহ ধরে ধনাগোদায় ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও নৌকা নিয়ে সঠিকভাবে মাছ ধরতে পারছেন না। প্রতিদিন এক ইঞ্জিনের ট্রলার বা নৌকায় দুই থেকে তিন লিটার ডিজেল লাগে। দুই ইঞ্জিনের হলে পাঁচ থেকে ছয় লিটার। তেলের পাম্প বা দোকানে প্রয়োজনমতো তেল পাওয়া যায় না। ডিজেলের দামও লিটারপ্রতি ২০–২৫ টাকা বেশি। তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন এক থেকে দেড় লিটার ডিজেল কিনতে পাই। ডিজেলের লাইগা নৌকা-ট্রলার চলতাছে না। মাছ ধরা প্রায় বন্ধ। খুব বিপাকে আছি।’
উপজেলার ইসলামাবাদের জেলে কমল চন্দ্র, চরপাথালিয়ার বিপুল সরকারসহ অন্তত ১০ জন জেলে ও মৎস্যজীবী প্রায় একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় বাজারের এক জ্বালানি তেল বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁর দোকানে সপ্তাহে গড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেলের চাহিদা। কিন্তু জেলার ডিপো থেকে মাত্র চার হাজার লিটার কিনতে পারেন। ফলে ক্রেতারা চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলার আমিরাবাদ ও ছেংগারচর মাছবাজারে দেখা গেছে, মাছের সরবরাহ কম। কিছু রুই, কাতলা ও পাঙাশ এসেছে শরীয়তপুর থেকে। তবে দাম তুলনামূলক বেশি। বাজারের দুজন মাছ বিক্রেতা জানান, প্রতি কেজি মাঝারি আকারের রুই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং কাতলা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আইড় মাছের দাম আরও বেশি। দুই সপ্তাহ আগে এসব মাছের দাম ছিল তুলনামূলক কম। দাম বাড়ায় বেচাকেনাও কমেছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, ডিজেল–সংকটে জেলেরা ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ট্রলার নিয়ে তেমন মাছ ধরতে পারছেন না। এর প্রভাব মাছের বাজারেও পড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে।






