আধুনিক কৃষিযন্ত্রের জন্য ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল হলেও ক্যানে তেল বিক্রির নিষেধাজ্ঞার কারণে পাবনার ঈশ্বরদীতে শতাধিক কৃষক বিপাকে পড়েছেন। ফিলিং স্টেশনগুলোতে ক্যানে তেল দেওয়া বন্ধ থাকায় যন্ত্র চালাতে সমস্যা হচ্ছে।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক মো. ময়েজ উদ্দিনসহ প্রায় ৪০ জন কৃষক গত রোববার বিকেলে তেলের সমস্যা সমাধানের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখানে কোনো সমাধান না পেয়ে ময়েজ উদ্দিন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিককে ফোন করেন এবং কৃষি কর্মকর্তাকে তাঁর সঙ্গে কথা বলান। মন্ত্রী তৎক্ষণাৎ সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন।

কিন্তু গতকাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত সমস্যা সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন ময়েজ উদ্দিন। তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তেলের জন্য চিরকুট দিচ্ছিলেন, কিন্তু পাম্প থেকে তেল মেলেনি। রোববার ৪০ জন কৃষক কার্যালয়ে গেলেও সমাধান পাননি। পরে মন্ত্রীকে ফোন করে কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলানো হয়। মন্ত্রীর নির্দেশ সত্ত্বেও গতকাল বিকেল পর্যন্ত অনেক কৃষক তেল না পেয়ে ফিরে এসেছেন।

ময়েজ উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘পুরো দেশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু আমাদের কৃষকদের কোনো তালিকা নেই, পরিচয়পত্র নেই। আমাদের পদে পদে বিতাড়িত হতে হয়। তেলের ক্ষেত্রেও তা–ই হচ্ছে। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।’

গতকাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মমিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘তিনি (ময়েজ উদ্দিন) কৃষিমন্ত্রীর কথা বলে একজনকে ফোন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। ফোনের ওপার থেকে সমস্যা সমাধান করতে বলেছেন। আমরা সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছি। তেলের জন্য পাম্পগুলোয় দিতে নতুন করে প্যাড ছাপাতে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পাম্পগুলোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।’

কৃষকদের কাছ থেকে জানা গেছে, ফসল আবাদে এখন শ্যালো মেশিন, হারভেস্টর, পাওয়ার টিলার, স্প্রে মেশিনসহ আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে। সব যন্ত্রে ডিজেল লাগে, কিন্তু যন্ত্র বহন করে পাম্পে নেওয়া যায় না। দীর্ঘদিন ক্যানে তেল নিতেন, কিন্তু নিষেধাজ্ঞায় ফিলিং স্টেশন তেল দিচ্ছে না। ফলে উপজেলার শতাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, মূলত ঢোপে তেল নিতে গেলে মোটরসাইকেলচালকেরা বাধা দেন। এতে ভুল-বোঝাবুঝি ও বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। সমস্যা সমাধানে তাঁরা ইতিমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। কৃষি বিভাগকে বিষয়টি তদারকির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাম্পের মালিকদের সঙ্গেও কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে। আশা করছেন আর সমস্যা থাকবে না।