চেলসির ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রোর মতে, ব্রাজিলের আক্রমণপংক্তি শীঘ্রই ছন্দে ফিরে আসবে। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে দলের খারাপ ফলাফল নিয়ে দর্শকদের হতাশা তিনি বুঝতে পারছেন। পেদ্রো বলছেন, ব্রাজিল দলে রোনালদো নাজারিও, রোনালদিনিও এবং রোমারিওর মতো তারকা রয়েছেন। শুধু হতাশা ভুলে জ্বলে উঠলেই হবে।

গত সপ্তাহে প্রীতি ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয় ব্রাজিল। মাঠে খেলার সময় গ্যালারি থেকে সমর্থকরা অনুপস্থিত নেইমারের নামে স্লোগান দিয়েছিলেন। এতে দলের গোল করার ক্ষমতা নিয়ে তাঁদের হতাশা প্রকাশ পায়।

এই ম্যাচে কোচ কার্লো আনচেলত্তি শক্তিশালী আক্রমণভাগ গড়ে তুলেছিলেন। বার্সেলোনার রাফিনিয়া, আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাথেউস কুনহাকে একসঙ্গে মাঠে নামান। দ্বিতীয়ার্ধে পেদ্রো খেলতে নামেন। কিন্তু এই তারকাভর্তি আক্রমণপংক্তি নিয়েও ব্রাজিল হেরে যায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমনটা কখনো দেখা যায়নি।

তবে পেদ্রো দল নিয়ে হতাশ নন। অরল্যান্ডোয় ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে আগামীকাল ভোরে ম্যাচের আগে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা একে অন্যকে আরও ভালোভাবে চিনতে শুরু করেছি। আমি ইংল্যান্ডে খেলি, ভিনি স্পেনে, রাফিনিয়া অন্য ক্লাবে—সবার পরিবেশ আলাদা। ক্লাবে যেমন সারা বছর একসঙ্গে অনুশীলন করি, জাতীয় দলে সেটা সম্ভব হয় না। এখানে অনেক কিছুই ভিন্নভাবে করতে হয়, তাই দ্রুত মানিয়ে নেওয়া জরুরি। সময় বেশি পেলে সবকিছু আরও মসৃণ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে সবকিছু ঠিক জায়গায় বসবে।”

২০২৩ সালের অক্টোবরে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে নেইমারের হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। এরপর তিনি ব্রাজিল দলে ফেরেননি। দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা (৭৯ গোল) এই নেইমার সান্তোসের হয়ে মাঠে ফিরলেও এখনো সেরা ফর্মে নেই। ফলে আনচেলত্তির দলে তাঁর জায়গা হয়নি।

ক্লাবে দুর্দান্ত খেললেও ভিনিসিয়ুস এবং রাফিনিয়াকে জাতীয় জার্সিতে সেরা ছন্দে দেখা যায়নি। ভিনিসিয়ুস ব্রাজিলের হয়ে ৪৬ ম্যাচে ৮ গোল করেছেন। রাফিনিয়া ৩৬ ম্যাচে ১১ গোল করেছেন। ২৪ বছর বয়সী পেদ্রো মনে করেন, ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ না জিততে পারার চাপ তারকা ফরোয়ার্ডদের পথে বড় বাধা।

পেদ্রো বলেন, “আগে আমাদের দলে রোনালদো, রোনালদিনিও এবং রোমারিওর মতো তারকা খেলোয়াড় ছিল। এখনকার ব্রাজিল দলেও তেমন মানের খেলোয়াড় আছে। রিয়াল মাদ্রিদে ভিনি, বার্সেলোনায় রাফিনিয়া, চেলসিতে আমি, এস্তেভাও এবং আন্দ্রে সান্তোস আছি। এখানে সবাই শীর্ষ ক্লাবে খেলছে। সমস্যা হচ্ছে, অনেক দিন ধরে আমরা বিশ্বকাপ জিততে পারিনি। আমরা বিশ্বের সেরা জাতীয় দল। কিন্তু দীর্ঘদিন শিরোপা না জিতলে চাপটা বাড়তেই থাকে।”

অরল্যান্ডোয় বাংলাদেশ সময় সকাল ছয়টায় ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।