এক বছর আগে ২৫ মার্চ ভারতের বিপক্ষে খেলে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ‘নতুন’ বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সেই অধ্যায়ের চক্রপূর্ণ হতে চলেছে। হামজা চৌধুরী, শমিত সোমের মতো প্রবাসী খেলোয়াড়রা লাল-সবুজ জার্সিতে মাঠ জয় করেছেন। ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়েছে বাংলাদেশ, হংকংয়ের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে ড্রও করেছে। এই চক্রপূর্ণকে জয়ের রঙে রাঙাতে চায় বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুরের জাতীয় স্টেডিয়ামে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায়।

প্রবাসী খেলোয়াড়দের বলয়ান বাংলাদেশ এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন তাড়াতাড়ি শেষ। বাছাইপর্বে পাঁচ ম্যাচে এক জয়, দুই হার, দুই ড্র—মোট পাঁচ পয়েন্ট। সিঙ্গাপুর ম্যাচটি নিয়ম রক্ষার মতোই। তবু কোচ হাভিয়ের কাবরেরার কাছে এটি কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কাল কাল্লাংয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “বাছাইপর্বে আমরা খুব ভালো করেছি। তবে যা আশা করেছিলাম, তার চেয়ে কম পয়েন্টই পেয়েছি। সিঙ্গাপুর ম্যাচটা অন্তত ভালোভাবে শেষ করতে চাই। যাতে আরও তিন পয়েন্ট পেতে পারি।”

জুনে ঢাকায় প্রথম লেগে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে দুর্দান্ত খেললেও ২–১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। কাবরেরা সেটি মনে করিয়ে দেন, “প্রথম ম্যাচটি খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। ওই ম্যাচে আমাদের দুটি ভুলের সুযোগ নিয়ে সিঙ্গাপুর জিতে যায়। আমাদের অন্তত এক পয়েন্ট পাওয়ার ভালো সুযোগ ছিল। এবার তেমন কিছু দেখতে চাই না।”

জয় মানে শুধু তিন পয়েন্ট নয়, আরও অনেক অর্জন। এশিয়ান বাছাইয়ে প্রথমবার দুই জয়ের স্বাদ। এর আগে ৯ বার খেলেও একবারই চূড়ান্ত পর্বে গিয়েছে বাংলাদেশ—১৯৮০ সালে, তখনও একটির বেশি জয় ছিল না। হামজা যুগে প্রতিপক্ষের মাঠে প্রথম জয়ও এখনো বাকি। ২৫ মার্চ শিলংয়ে ভারত ম্যাচে হামজার অভিষেক হয়। তারপর আট ম্যাচে ঘরের মাঠে দুই জয়, প্রতিপক্ষের মাঠে কোনোটাই নয়।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জয় আরেক ‘প্রথম’। চারবারের সাক্ষাতে দুই ড্র, দুই হার। পাশাপাশি ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে পয়েন্ট বাড়ানোর সুযোগ। গত বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামের কাছে ৩–০ হারে ২.৩৮ পয়েন্ট খোয়েছে বাংলাদেশ। এখন র‍্যাঙ্কিংয়ে সিঙ্গাপুর (১৪৮) ৩৩ ধাপ এগিয়ে (১৮১)। এই ম্যাচে ক্ষত পূরণের সুযোগ।

সবচেয়ে ভালো জয়ের অর্থ বলেছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, “আমরা যদি ৩ পয়েন্ট পাই, সেটা ইতিহাসই হবে। বাংলাদেশ দলের জন্য ৮ পয়েন্ট পাওয়া হবে অত্যন্ত ইতিবাচক। আমার মনে হয় পুরো বাছাইপর্বটা আমরা খুব খারাপ করিনি। আমাদের সামনে এই একটি কাজই বাকি। এটার জন্য সবাই ভালোভাবেই প্রস্তুত।”