অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের (এএজি) কর্মদক্ষতা যাচাই করতে আজ মঙ্গলবার থেকে পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এই মূল্যায়ন পরীক্ষা চলবে ২ এপ্রিল পর্যন্ত।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে ২৯ মার্চ প্রকাশিত একটি ‘জরুরি নোটিশ’ থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এর আগে ২৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলকে রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দেন। সেদিন বিকেলে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে যোগদানের পর তিনি এই কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুসারে, আজ বেলা দুইটায় ডিএজিদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষা (পারফরম্যান্স ইভ্যালুয়েশন টেস্ট) শুরু হবে। আর ১ ও ২ এপ্রিল বেলা ১১টা থেকে দুই ধাপে এএজিদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
আইনজীবীরা বলছেন, ডিএজি ও এএজিদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়ার এ উদ্যোগ এটিই প্রথম।
নোটিশে যা আছে
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত জরুরি নোটিশে বলা হয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশনায় ডিএজি ও এএজিদের ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল ও তিনজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড এই পরীক্ষা আয়োজন করবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, ডিএজি ও এএজিদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বোর্ডের সামনে উপস্থিত হতে অনুরোধ করা হচ্ছে।
ডিএজি ও এএজিদের গাউন ছাড়া আদালতের পোশাকে বোর্ডের সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে। কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষার সময়সূচি (সিডিউল) প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাওয়া যাবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল ছাড়া বোর্ডের অপর তিন সদস্য হলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা, মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক।
‘এত ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল দরকার আছে কি’ শিরোনামে ১২ মার্চ প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে ১০৩ জন ডিএজি ও ২৩০ জন এএজি রয়েছেন। এত বেশিসংখ্যক আইন কর্মকর্তা এর আগে কখনো ছিল বলে জানা যায়নি। এই দুই পদে এত বেশিসংখ্যক নিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনবিশেষজ্ঞরা।
এত বেশিসংখ্যক আইন কর্মকর্তার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ১১ মার্চ আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মুক্তকণ্ঠকে বলেছিলেন, ‘আমরা দেখছি কী করা যায়। বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’
একই বিষয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে ২৯ মার্চ অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাত্রই অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ হলো। সরকার নিশ্চয়ই সামনে চিন্তা করবে, এই অফিস কার্যকরভাবে চালাতে কতসংখ্যক আইন কর্মকর্তা দরকার।
ইতিমধ্যে একটি মূলধারার পত্রিকায় এ ধরনের প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে উল্লেখ করে সেদিন রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘এটি সরকারের একান্ত সিদ্ধান্ত। তবে সরকার আমাদের কোনো মতামত চাইলে অবশ্যই আমরা মতামত দেব। তবে আমি মনে করি, উই নিড আ কম্পিট্যান্ট অ্যাটর্নি সার্ভিস (আমাদের একটি দক্ষ অ্যাটর্নি সেবা প্রয়োজন)।’
এর তিন দিন পর আজ আইন কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে।






