অন্তর্বর্তী সরকারের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তিকে ‘দাসত্বমূলক, চক্রান্তমূলক ও দেশবিরোধী অপকর্ম’ বলে অভিহিত করে অবিলম্বে এটি বাতিল করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটি বলছে, এই ‘অসম’ চুক্তির জালে বাংলাদেশকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে সিপিবির নেতারা এই দাবি তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জেলা কমিটি এই পদযাত্রার আয়োজন করে। কর্মসূচিটি পুরানা পল্টন মোড় থেকে শুরু হয়ে নবাবপুরে গিয়ে শেষ হয়।

পদযাত্রায় অংশ নিয়ে সিপিবি জানায়, এই অসম চুক্তি অবিলম্বে বাতিল না করলে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পদযাত্রা চলাকালীন পল্টন মোড়, শহীদ নূর হোসেন স্কয়ার, রমনা ভবন, ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল, নবাবপুর মোড় ও গুলিস্তানে দলটির পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

পদযাত্রা শুরুর আগে সিপিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জেলা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সমীরের সভাপতিত্বে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার, কন্ট্রোল কমিশন সদস্য অধ্যাপক আবু সাঈদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জামশেদ আনোয়ার তপন, ত্রিদিব সাহা, সদস্য হজরত আলী ও মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল।

সমাবেশে জলি তালুকদার বলেন, “এই চুক্তির পেছনে তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার অতি উৎসাহী ভূমিকা ছিল। খসড়া অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেডের (ইউএসএআরটি) কাজ চলার সময় তিনি দ্রুত ও গোপনে চুক্তি স্বাক্ষরে তৎপর ছিলেন। চুক্তির খসড়া নথি ফাঁসের কথিত অভিযোগে এনবিআরের এক কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা এবং বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা তাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্টতার অভিযোগ জোরালো করেছিল।”

জলি তালুকদার আরও অভিযোগ করেন, “নির্বাচনের পর সবাইকে অবাক করে ওই ব্যক্তি নতুন মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। নিয়োগ পেয়ে তিনি ঘোষণা করেছেন, মার্কিন চুক্তির বিষয়ে সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার সম্মতি ছিল। এখন পর্যন্ত সরকারি দল যার প্রতিবাদ করেনি।”

চুক্তির মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব বিলীন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করে সিপিবির কন্ট্রোল কমিশন সদস্য অধ্যাপক আবু সাঈদ বলেন, “চুক্তিতে যেসব অপ্রকাশযোগ্য ধারা (নন-ডিসক্লোজার ক্লজ) রয়েছে, তা এটিকে একটি অসম ও জবরদস্তিমূলক মুচলেকায় পরিণত করেছে। এটি একটি অধীনতার দলিল।”

চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে আবু সাঈদ বলেন, “মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির মর্ম হলো বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে অন্য কোনো পক্ষের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করতে পারবে না, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ব্যতীত কারও সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবে না। কৃষি-খাদ্যসহ রপ্তানিমুখী পণ্যের কাঁচামাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করতে বাধ্য থাকবে। জ্বালানি আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভিন্ন অন্য কোনো উৎসের দ্বারস্থ হতে পারবে না। এই চুক্তি করার কোনো এখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের ছিল না। ফলে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পূর্বেই তা বাতিল করতে হবে।”