টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু শিল্পীসমাজ থেকে সাধারণ দর্শকের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। সহকর্মীরা বলছেন, তিনি শুধু জনপ্রিয় অভিনেতাই ছিলেন না, এক আপন মানুষও ছিলেন। এই বিদায়ে শোক ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।

দুই বাংলার অভিনয়শিল্পী জয়া আহসানও রাহুলের মৃত্যুতে শোকাহত। পশ্চিমবঙ্গের সিনেমায় নিয়মিত কাজকর্ম করে আসা জয়া কলকাতায় নিয়মিত যাতায়াত করেন এবং সদ্য প্রয়াত রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সিনেমায় অভিনয় করেছেন। দিঘার তালসারি সৈকতে ডুবে মারা যাওয়া ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ খ্যাত এই অভিনেতার মর্মান্তিক প্রয়াণে আজ সোমবার সন্ধ্যায় জয়া নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি…এক অপরিসীম মগ্ন মানুষ, চিরনিদ্রায় এক অনন্য শিল্পী…এ যেন ভাবতেই পারা যায় না….।’

রাহুল অরুণোদয়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জয়া লিখেছেন, ‘তার সঙ্গে আলাপ অনেক আগেই, “ঝরাপালক”-এর সময় প্রথম এবং শেষ কাজ করা একসঙ্গে; কবি জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে অভিনয় করছিলেন অরুণোদয়; চেহারায় হয়তো মিল নেই, তবু যখন তার সঙ্গে অভিনয় করলাম, মনে হলো জীবনানন্দের কবিতার এক নির্বিঘ্ন স্রোত তার অন্তরে প্রবাহিত; সেই পরিচয় থেকেই শিল্পী হিসেবে তার গভীরতা আমায় মুগ্ধ করেছে; অভিনয়ে, কথায়, আদর্শে এবং লেখনীতে যে অরুণোদয় নির্মেদ, মায়াময়, স্পষ্ট এবং চিরন্তন; আজ সেই অরুণোদয়কে মনে করে যেতে চাই প্রতি মুহূর্ত।’

পোস্টের শেষে রাহুলের চিত্রনায়িকা স্ত্রী অভিনেত্রী প্রিয়াংকা সরকারের উদ্দেশ্যে জয়া লিখেছেন, ‘প্রিয়াঙ্কা, তুমি লড়াইয়ের সমনাম, আজকের এই ঝড়ঝাপ্টার দিনে সামলে থেকো, আগলে রেখো সহজকে। অরুণোদয়, তোমায় মনে থাকবে আজীবন।’

তালসারিতে শুটিং চলাকালীন গতকাল রোববার ঘটনাস্থলের পর রাহুলের মরদেহ প্রথম নেওয়া হয় দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। পরে তা আনা হয় তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মর্গে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হয় ময়নাতদন্ত।

হাসপাতাল সূত্রের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রাথমিক ময়নাতদন্তে রাহুলের ফুসফুস ও খাদ্যনালিতে বালু ও নোনাপানি পাওয়া গেছে। তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল সূত্রের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমগুলো লিখেছে, প্রাথমিক ময়নাতদন্তে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরীরে পানিতে ডুবে মৃত্যুর স্পষ্ট লক্ষণ পাওয়া গেছে। চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর ফুসফুস ও খাদ্যনালিতে বিপুল পরিমাণ বালু ও নোনাপানি জমা ছিল। এমনকি শ্বাসনালিতে বালুর কণার উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে, যা সাধারণত দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকলে ঘটে।

ময়নাতদন্তে আরও দেখা গেছে, ফুসফুস অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গিয়ে প্রায় দ্বিগুণ আকার ধারণ করেছিল। চিকিৎসকদের মতে, পানি ও বালুকণার প্রবেশে ফুসফুসের ভেতরে বায়ুথলিগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অক্সিজেন আদান-প্রদান বন্ধ হয়ে যায়, যা ডুবে মৃত্যুর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, শরীরে যে পরিমাণ বালু ও নোনাপানি পাওয়া গেছে, তা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, রাহুল দীর্ঘ সময়, অন্তত এক ঘণ্টার বেশি সময় পানির নিচে ছিলেন। এ ছাড়া দেহে বড় ধরনের আঘাতের স্পষ্ট কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যা এ ঘটনাকে দুর্ঘটনাজনিত ডুবে মৃত্যুর দিকেই ইঙ্গিত করছে।