ছেলের অনেকদিনের আবদারে বাবা শেষমেশ মোটরসাইকেল কিনে দেন। কিন্তু সেই মোটরসাইকেলই হয়ে ওঠে ছেলের মৃত্যুর কারণ।

আজ সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকার ইউলুপ ব্রিজের ওপর একটি সিএনজি অটোরিকশার ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক মো. ফাহিম (১৭) নামের শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হন, তবে তার নাম–পরিচয় জানা যায়নি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উত্তর বাড্ডা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন ফাহিমের মা–বাবা। ছেলের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। ছেলের মাথায় হাত রেখে বাবা মো. হালিম বলেন, “আমি চাইছিলাম না মোটরসাইকেল কিনতে। পরে ছেলের খুশির জন্য কিনে দিলাম। সেই মোটরসাইকেলই আজ আমার ছেলেকে নিয়ে গেল...আমার ছেলে আর নাই।”

ফাহিমের মা সাথী বেগমও হাসপাতালে এসেছেন। সন্তানের শোকে তিনি বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। স্বজনেরা তাঁকে ধরে রাখার চেষ্টা করলেও তাঁর কান্না থামছিল না।

বাড্ডা এলাকার সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন ফাহিম। এক মাস আগে তার বাবা মো. হালিম তাকে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেন। এক বন্ধুকে পিঠে নিয়ে ঘুরতে বের হন ফাহিম। তখনই দুর্ঘটনায় পড়েন তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী মো. বাদশা বলেন, হঠাৎ একটি শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, একজন ব্যক্তি রাস্তায় পড়ে ছটফট করছেন এবং পাশে একটি মোটরসাইকেল পড়ে আছে। সেখানে উপস্থিত লোকজন আরেক আহত ব্যক্তিকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তিনি আহত ফাহিমকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন।

স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে মো. বাদশা বলেন, একটি সিএনজি অটোরিকশা মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে মোটরসাইকেলের আরোহীরা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, নিহত স্কুলশিক্ষার্থীর মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে বাড্ডা থানাকে অবগত করা হয়েছে।