চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, নগরীতে আরও ছয় শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে পাঠানো একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এর ফলে জেলায় মোট আট শিশুর শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এদের মধ্যে ছয়জন চট্টগ্রাম নগরের এবং দুজন দুটি উপজেলার বাসিন্দা। নতুন আটজনসহ বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর লক্ষণ নিয়ে ২৯ শিশু ভর্তি রয়েছে।
আগে আজ সকালে চট্টগ্রামে দুই শিশুর শরীরে হাম শনাক্তের খবর এসেছিল। তাদের একজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যজন চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদের বয়স যথাক্রমে পাঁচ মাস এবং সাড়ে পাঁচ মাস। তারা হাটহাজারি ও বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা।
জেলা সিভিল কার্যালয়ের সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহে জেলায় ৭৫ জনের নমুনা ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজলস-রুবেলা ল্যাবরেটরিতে (এনপিএমএল) পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে আটজনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। বাকিদের প্রতিবেদন এখনো আসেনি। তবে নগরের হাসপাতালগুলোতে তাদের আলাদা কর্নারে চিকিৎসা চলছে।
জেলা সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ৭৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ৮ জনের তথ্য এসেছে। বাকিদের তথ্য পাওয়া সাপেক্ষে বিস্তারিত জানানো হবে। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত আমরা নমুনা পাঠাচ্ছি। এখনো পর্যন্ত মৃত্যুর খবর নেই। জেলায় হামের টিকার সংকট নেই।’
সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, নমুনা সংগ্রহকৃত রোগীদের মধ্যে ২৯ জন নগরের তিনটি হাসপাতালে ভর্তি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ৯ জন এবং চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও বোয়ালখালী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন হাম ও লক্ষণসহ ভর্তি রয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগে হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি অধিকাংশ শিশুর বয়স ১৫ মাসের নিচে বলে জানিয়েছেন বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ মুছা মিঞা। তিনি বলেন, ভর্তি শিশুদের অনেকের শরীরে র্যাশ, জ্বর ও নিউমোনিয়া দেখা গেছে। শিশু ওয়ার্ডের আলাদা হাম কর্নারে রেখে তাদের চিকিৎসা চালানো হচ্ছে।
দাতা সংস্থাগুলোর একটি সূত্র বলছে, এ বছরের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম হাম শনাক্ত হয়। ১০ জানুয়ারি ক্যাম্প এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়।






