দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত। একই সঙ্গে তাঁর অবরুদ্ধ ব্যাংক হিসাব এবং জব্দকৃত সম্পত্তি মুক্তির আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

আজ সোমবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে এ আদেশ জারি করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আসামিপক্ষের আইনজীবী জিয়াউল আহসানের জামিন এবং অবরুদ্ধ ব্যাংক হিসাব ও জব্দকৃত সম্পত্তি মুক্তির আবেদন করেছিলেন। শুনানির পর আদালত জামিনসহ সব আবেদন নাকচ করে দেন।

এর আগে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি একই আদালত দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখান। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ আনিয়ে গত বছরের ২৩ জানুয়ারি দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান নিজ নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করেন তিনি। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করে স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে তা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেছেন। নিজ নামে থাকা আটটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে জিয়াউল আহসানের।

এজাহারে আরও বলা হয়, উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।