‘ফখর জামান শেষ। যেহেতু প্রমাণ সামনে চলে এসেছে, আমি নিশ্চিত বড় অঙ্কের জরিমানাই হতে যাচ্ছে।’

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বল টেম্পারিং কাণ্ডে জড়ানো ফখর জামানকে নিয়ে এই মন্তব্য পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলীর। রোববার রাতে করাচি কিংস-লাহোর কালান্দার্স ম্যাচে ফখরের বিরুদ্ধে বলের আকৃতি পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে। আম্পায়াররা তাৎক্ষণিকভাবে লাহোর কালান্দার্সকে ৫ রান জরিমানা করেন। দলটি শাস্তি পেলেও বল টেম্পারিংয়ের জন্য এখনও কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। তবে ফখরের ফাঁসে পড়ার সম্ভাবনা বেশি।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ফখরের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিধির লেভেল-৩ পর্যায়ের অপরাধের অভিযোগ আনেছে। এর শাস্তি সর্বনিম্ন এক থেকে সর্বোচ্চ দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা।

ম্যাচের পর পিসিবির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ম্যাচ রেফারি রোশান মাহানামা আগামী দুই দিনের মধ্যে শুনানি করবেন এবং ফখর এই অভিযোগের মুখোমুখি হবেন।

ঘটনাটি ঘটে করাচির রান তাড়ার শেষ ওভারের শুরুতে। অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি ও ফখরের হাত দিয়ে বল বোলার হারিস রউফের হাতে পৌঁছালে আম্পায়ার ফয়সাল আফ্রিদি তা পরীক্ষার জন্য নেন। পরে ফয়সাল অপর আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদের সঙ্গে আলোচনা করে বলটি টেম্পার করা হয়েছে বলে মনে করে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন।

আম্পায়াররা লাহোরকে ৫ রান জরিমানা করেন। তখন করাচি ব্যাটিং করছিল বলে তাদের স্কোরবোর্ডে এই রান যোগ হয়। শেষ ওভারে করাচির ১৪ রান লাগলেও জরিমানার কারণে তা ৯ রানে নেমে আসে। আব্বাস আফ্রিদি রউফের প্রথম দুই বলেই সেই রান তুলে নেন।

পিএসএল প্লেয়িং কন্ডিশনের ৪১.৩ ধারা অনুযায়ী আম্পায়াররা ‘বারবার এবং অনিয়মিতভাবে বল পরীক্ষা’ করতে পারেন। ৪১.৩.৫.৩ ধারায় বলা আছে, বলের আকৃতি পরিবর্তনের জন্য দায়ী খেলোয়াড় বা খেলোয়াড়দের শনাক্ত হলে ব্যাটিং পক্ষকে ৫ পেনাল্টি রান দেওয়া হবে।

ম্যাচের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে লাহোর অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদিকে পেনাল্টি রানের কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি ‘আমরা দেখব (আম্পায়াররা কী বলেন)’ বলে এড়িয়ে যান।

ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে এআরওয়াই নিউজের টকশোতে সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলী বলেন, নিশ্চিতভাবে টেম্পারিং হয়েছে। তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক সাবেক ক্রিকেটার কামরান আকমলও ফখরকে দায়ী করেন। তিনি বোলার রউফ ও অধিনায়ক শাহিনকেও দায়ী করে বলেন, ‘শুধু ফখর জামানই নয়, এই বল টেম্পারিংয়ের জন্য অধিনায়ক শাহিন এবং হারিস রউফও দায়ী। তারাও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন।’