আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে একের পর এক হত্যাকাণ্ডে দেশের ভোটাররা চরম শঙ্কায় রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনে দলটির সংসদ সদস্য প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শনিবার ভোলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিলনায়তনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দেশে নির্বাচন এলেই সহিংসতা বাড়ে উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগেই কয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছে। চট্টগ্রামে বিএনপি নেতা এরশাদুল্লার ওপর হত্যাচেষ্টা এবং ইনকিলাব মঞ্চের শহীদ ওসমান হত্যাকাণ্ড তার প্রমাণ।
হাফিজ উদ্দিন মনে করেন, নির্বাচনের বাকি সময়েও হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাঁদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।
ভারতে পলাতক শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘এখানে বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করে, গণতন্ত্র আর মানুষের জীবন বিনষ্ট করে ভারতে প্রবেশ করেছেন বিনা বাধায়, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা আশা করব, ভারত সরকার এ ধরনের উদ্যোগ থেকে বিরত থাকবে। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড যাঁরা করবে, তাঁদের ধরে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবে। আমরা জানি, মাফিয়া নেত্রীর নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ডগুলো হচ্ছে। এই মাফিয়া নেত্রী বাংলাদেশে এবং বাইরের পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম স্বৈরশাসক হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে, ভারতের উচিত অবিলম্বে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো।’
ভোলা-৩ আসনে মনোনয়ন পাওয়া বিএনপির এই নেতা বলেন, ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। একটি পুরো প্রজন্ম ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জনগণ অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, এটি তাঁর জীবনের দশম নির্বাচন। প্রথম ছয়টিতে তিনি বিজয়ী হয়েছেন, পরবর্তী সময়ে নিজের ভোটও দিতে পারেননি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের নির্বাচন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে।
ভোলা-৩ সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রহমত উল্লাহর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শামীম রহমান। বিএনপির মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) মুহা. নিজামুল হক, ইসলামী আন্দোলনের মো. মোসলেহ উদ্দীন, জাতীয় পার্টির মো. কামাল উদ্দিন এবং গণ অধিকার পরিষদের মো. আবু তৈয়বের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।






