লক্ষ্মীপুরে যাত্রীবাহী বাসের লাগেজ বক্সে করে লালমনিরহাট থেকে আনা ৪৭টি ছাগলের দম বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

ছাগলের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের দায়ে বাসের সুপারভাইজার ও ছাগলের মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ শনিবার দুপুরে এ দণ্ড দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন বাসের সুপারভাইজার মো. আবুল হাসেম ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. ফারুক।

গতকাল শুক্রবার লালমনিরহাট থেকে আনিন্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে করে মো. ফারুকের ৪৭টি ছাগল লক্ষ্মীপুরে আনা হচ্ছিল। বাসের লাগেজ বক্সে অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছাগলগুলো পরিবহন করা হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় শ্বাসরোধে একে একে সব ছাগল মারা যায়। ঘটনার পর বাসচালক ও সুপারভাইজার ছাগলের মালিকের তোপের মুখে পড়েন। পরে পুলিশকে জানানো হয় এবং দুই পক্ষকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সোপর্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ হাজার করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ছাগলের মালিক মো. ফারুকের দাবি, তাঁর বাবা লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থেকে ছাগলগুলো কিনে বাসে করে লক্ষ্মীপুরে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু বাসচালক ও সুপারভাইজারের দায়িত্বহীনতার কারণেই শ্বাসরোধে প্রাণীগুলোর মৃত্যু ঘটে। এতে তাঁদের ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। গত দুই বছর ধরে নিয়মিত একই বাসের লাগেজ বক্সে ছাগল আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। প্রতিটি ছাগলের জন্য ৩০০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, “যাত্রীবাহী বাসের লাগেজ বক্সে এভাবে জীবন্ত প্রাণী পরিবহন করা সম্পূর্ণ অন্যায় ও নিষ্ঠুরতার শামিল। অতিরিক্ত গাদাগাদি ও বাতাস চলাচলের সুযোগ না থাকায় ছাগলগুলোর দম বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে এ ধরনের অমানবিকভাবে প্রাণী পরিবহন বন্ধে কঠোর নজরদারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”