লিবিয়া থেকে রাবারের বোটে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার বিকেলে তাদের পরিবারের সদস্যরা এই সংবাদ পান। ওই বোটেই থাকা একই উপজেলার আরেকজন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত চারজন হলেন দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের আবু সরদারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সরদার ওরফে ময়না (৩০), আবদুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে সাহান এহিয়া (২৫) এবং একই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের আবদুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮)।

তারাপাশা গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য এওর মিয়া মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে জানান, মারা যাওয়া চারজনই তাঁর আত্মীয়। শনিবার বিকেলে ওই বোটে থাকা গ্রামের আবদুল কাহারের ছেলে রোহান আহমদ (২৫) ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রোহান জানিয়েছেন, বোটে খাবার ও পানির সংকটের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে অনেকেই মারা যান। তাঁদের মধ্যে এই চারজনও আছেন। পরে তাঁদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

একই গ্রামের বাসিন্দা বর্তমান ইউপি সদস্য শাহনূর মিয়া মুক্তকণ্ঠকে বলেন, রোহানই ফোনে গ্রামে চারজনের মৃত্যুর খবরটি জানিয়েছেন। রাবারের বোটে করে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে নেওয়া হয়। এ ধরনের বোটকে লোকজন গেম বলে। গেমেই তাঁরা মারা গেছেন।

সাহান এহিয়ার বড় ভাই মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, প্রত্যেকেই ১২ লাখ টাকায় গ্রিসে যাওয়ার জন্য দালালের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। গত মাসে তাঁরা বাড়ি থেকে রওনা দেন। লিবিয়া যাওয়ার পর অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়। কয়েক দিন ধরে তাঁদের কোনো খোঁজ ছিল না। আজ বিকেলে চাচাতো ভাই রোহান ফোনে ওই চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়েছেন।

সুনামগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানিয়েছেন, ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চারজন রয়েছেন বলে তাঁরাও বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি এখনো নিশ্চিত নন।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ছয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর গ্রিসের উপকূলে কমপক্ষে ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা উত্তর আফ্রিকা থেকে রাবারের নৌকায় করে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাচ্ছিলেন। ওই যাত্রা থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা শনিবার গ্রিসের কোস্টগার্ডকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ওই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে ২১ জন বাংলাদেশি, ৪ জন দক্ষিণ সুদানি এবং চাদের একজন নাগরিক জীবিত উদ্ধার হয়েছেন।