কারও কাছে বয়স কেবল একটা সংখ্যা। বসনিয়ান স্ট্রাইকার এডেন জেকো সেই ধরনেরই একজন। চল্লিশ পেরিয়েও তিনি বড় মঞ্চে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সক্ষমতা ধরে আছেন। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে–অফ সেমিফাইনালে ওয়েলসের বিরুদ্ধে তিনি সেটাই প্রমাণ করেছেন।
ম্যাচ শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। কিন্তু শেষ প্রান্তে জেকোর গুরুত্বপূর্ণ গোলে দলটি সমতায় ফিরে আসে। তারপর টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত করে প্লে–অফ ফাইনালে জায়গা করে নেয় বসনিয়া। এখন সামনে শেষ বাধা ইতালি। এই ম্যাচ জিতলে জেকোর সামনে খুলে যাবে ইতিহাসের দরজা।
৪০ বা তার বেশি বয়সে বিশ্বকাপে খেলা আউটফিল্ড ফুটবলারের তালিকায় এখনো একটাই নাম—রজার মিলা। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামার সময় তাঁর বয়স ছিল ৪২ বছর ৩৫ দিন। চার দিন পর রাশিয়ার বিপক্ষেও খেলেন এবং সেই ম্যাচেই গোল করে তিনি অনন্য রেকর্ড গড়েন।
দীর্ঘদিন ধরে এই তালিকায় আর কোনো নাম যুক্ত হয়নি। তবে এবার সেই চিত্র বদলাতে চলেছে। এরই মধ্যে ৪০ পেরিয়ে বিশ্বকাপে খেলার পথে রয়েছেন দুই কিংবদন্তি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদ্রিচ।
২০২২ বিশ্বকাপের পর অনেকে ভেবেছিলেন এই দুজনের আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ। কিন্তু তারা এখনো থেমে নেই। বরং পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়াকে নেতৃত্ব দিয়ে সম্ভাব্য ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিতে প্রস্তুত হচ্ছেন। রোনালদোর বয়স গত মাসে ৪১ পেরিয়েছে, মদ্রিচের চল্লিশ পূর্ণ হয়েছে গত সেপ্টেম্বরে।
এই দুই তারকার তুলনায় জেকোর পথ আলাদা। তিনি শেষবারের মতো ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ খেলেছেন, যখন তাঁর হাত ধরেই বসনিয়া প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টে জায়গা করে। সেবার গ্রুপ পর্বে বিদায় নিলেও ইরানের বিপক্ষে ৩–১ গোলের জয়ে প্রথম গোলটি করেছিলেন জেকো। কিন্তু পরের দুই আসরে বসনিয়া বাছাইপর্বেই উতরাতে ব্যর্থ হয়।
এবার আবার সুযোগ এসেছে দলটির। তবে সামনে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। কারণ বসনিয়ার মতো ইতালিও সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপে খেলতে না পেরে ক্ষুধার্ত। ৩১ মার্চের ম্যাচে ইতালিকে হারালে বসনিয়া শুধু বিশ্বকাপে ফিরবে না, জেকোও ৪০ পেরিয়ে বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলারদের বিশেষ তালিকায় নাম লিখিয়ে দেবেন।
২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর থেকে বসনিয়ার আক্রমণের প্রধান ভরসা জেকো। ১৪৭ ম্যাচে ৭৩ গোল—এই সংখ্যাই তাঁর গুরুত্ব বোঝায়। গত দুই দশকে প্রতিটি বছরেই গোল করেছেন তিনি, এমনকি সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতেও ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত গোলের মধ্যে ছিলেন।
গত গ্রীষ্মে ইতালির ক্লাব ফিওরেন্তিনায় যোগ দিয়েছেন জেকো। বয়স নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তাঁর জবাব, “বয়স কোনো বিষয় না, আমি এখনো শেষ হয়ে যাইনি।” তবে বিশ্বকাপের আগে নিজের ফুরিয়ে না যাওয়ার প্রমাণ ইতালির বিপক্ষে আরেকবার দিতে হবে জেকোকে।






