‘একবার না পারিলে দেখ শতবার’—এই উপদেশ সবাই জানেন। কিন্তু খেলোয়াড়দের জন্য এত ধৈর্য ধরা সহজ নয়। খালেদ মাহমুদ রাকিন এমনই এক উদাহরণ। দশ বছরের অপেক্ষা, বারবার ক্যাম্প থেকে বাদ পড়ার কষ্ট সহ্য করে তিনি শেষপর্যন্ত জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন। হকি তারকা রাসেল মাহমুদ জিমির ছোট ভাই হিসেবে নয়, নিজের দক্ষতায় রাকিন জায়গা করে নিয়েছেন ৩১ মার্চ ব্যাংকক যাওয়ার এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে ১৮ জনের মূল স্কোয়াডে।
রাকিনের এই লড়াই শুরু হয় ২০১৪ সালে বিকেএসপি থেকে বের হওয়ার পর। ২০১৫ সাল থেকে তিনি নিয়মিত জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পান। তখন বড় ভাই জিমি দলের মূল খেলোয়াড়। কিন্তু প্রতিবার চূড়ান্ত দলে ঘোষণার আগে রাকিন বাদ পড়তেন। কতবার ক্যাম্পে গিয়েছেন, তার সঠিক হিসাবও হারিয়ে গেছে। রাকিনের অনুমান, অন্তত ১০-১২ বার তো হবেই! বারবার দলের দোরগোড়ায় থমকে ফিরে আসায় একসময় হতাশা তাঁকে ঘিরে ধরেছিল।
সেই কঠিন সময়ে বড় ভাই জিমিই ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে জাতীয় দলের অনুশীলন শেষে রাকিন বলছিলেন, ‘জিমি ভাই বলতেন, “তুই হাল ছাড়িস না। ধৈর্য ধর। ভালোভাবে খেলতে থাক, দেখবি একবার না একবার সুযোগ হবেই।”’
অবশেষে ২৮ বছর বয়সে সেই সুযোগ এলো রাকিনের জন্য। তিনি বলছিলেন, ‘২৬ মার্চ দলে থাকার কথা জানার পর কী খুশি হয়েছিল বলে বোঝাতে পারব না।’
বারবার মনে পড়ছিল প্রয়াত বাবা, সাবেক হকি তারকা আবদুর রাজ্জাক সোনা মিয়ার কথা। বাবার স্বপ্ন ছিল দুই ভাই একসঙ্গে জাতীয় দলে খেলবে। কিন্তু গত বছর বয়সের কারণে ৩৮ বছরের জিমি দল থেকে বাদ পড়ায় সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেল। তবু রাকিন হাল ছাড়ছেন না। তিনি বিশ্বাস করেন, বড় ভাই ফিরবেন। ‘ফিটনেস আর পারফরম্যান্স থাকলে জাতীয় দলে আবারও তাঁকে ডাকা উচিত। জিমি ভাইও মনে করেন জাতীয় দলে তিনি ফিরবেন।’
রাকিনের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরেছে মজারভাবে। বিকেএসপিতে তিনি ফরোয়ার্ড হিসেবে ভর্তি হন। কিন্তু দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় কোচের পরামর্শে রক্ষণে খেলা শুরু করেন। ২০১২ সালে আজাদ স্পোর্টিংয়ের হয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রথম খেলায় বড় ভাই জিমির বিপক্ষে রক্ষণ সামলাতে হয়। সেই স্মৃতি তুলে ধরে রাকিন বলছিলেন, ‘তখন আমার লক্ষ্য ছিল ভাইকে বল ধরতে দেব না। তখন থেকেই ডিফেন্সে খেলার প্রতি একটা আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়।’
দশ বছরের অপেক্ষা শেষ করে এখন রাকিনের লক্ষ্য জাতীয় দলের জার্সিতে ভালো খেলা। সুযোগ পেয়ে রোমাঞ্চিত এই ডিফেন্ডার বলছেন, ‘সুযোগ যখন এসেছে, আমি চেষ্টা করব শতভাগ পারফরম্যান্স দেওয়ার। বিদেশে গিয়ে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশা আল্লাহ।’






