হাঁটাচলার ক্ষমতা নেই। মা বাছিরন বেগমের কোলে চড়ে কম্বল নিতে এসেছিলেন শাহেনা খাতুন (২৪)। মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের দেওয়া কম্বল হাতে শারীরিক প্রতিবন্ধী এই তরুণী বললেন, এবারের শীতের বাকি দিনগুলো আরামে যাবে। এই কম্বলের ওম খুব ভালো মনে হচ্ছে।

শাহেনা খাতুনের বাড়ি লালমনিরহাট সদরের মোগলহাটের কর্ণপুর গ্রামে। শনিবার সকালে স্থানীয় ইটাপোতা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তাঁর মতো সেখানকার আরও ২৩৫ জন শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। কম্বলগুলো দিয়ে সহযোগিতা করেছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক।

শুধু শাহেনা খাতুন নন, তাঁর মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী মোগলহাটের কুরুল গ্রামের শুকুর আলী (৬০), কর্ণপুর গ্রামের জব্বার আলী (৩৫), ইটাপোতা গ্রামের আবদুল কাইয়ুম (৫০) ও একই গ্রামের মানিক মিয়ার (২৫) হাতেও কম্বল তুলে দেওয়া হয়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইটাপোতা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ধরলা ও রতনাই নদ-নদী বিধৌত মোগলহাট ইউনিয়নের ইটাপোতা, কুরুল, বুমকা, কর্ণপুর, দুরাকুটি ও কাকেয়া টেপা এবং একই উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের বনগ্রামে নানা বয়সী ২০০ জন নারী-পুরুষ শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। কম্বল বিতরণ করেন মুক্তকণ্ঠ বন্ধুসভা লালমনিরহাটের সাবেক ও বর্তমান সদস্যরা।

এরপর বিকেলে লালমনিরহাটের ১৮ জন পত্রিকা বিপণনকর্মী (হকার) ও সন্ধ্যায় লালমনিরহাট রেলস্টেশন এলাকার ১৭ জন ভবঘুরে, ভাসমান ভিখারির হাতে কম্বল তুলে দেন বন্ধুসভার সদস্যরা।

শীতার্তদের হাতে কম্বল তুলে দেওয়ার এ উদ্যোগে উপস্থিত ছিলেন মোগলহাট ইটাপোতা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হক, মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. সুরুজ আলী, সাবেক ইউপি সদস্য শুকুর উদ্দিন, মুক্তকণ্ঠের লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি আবদুর রব সুজন, লালমনিরহাট নদীভাঙা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান প্রমুখ।

ইটাপোতা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘দেশে অনেক পত্রিকা আছে, তার মধ্যে মুক্তকণ্ঠ শুধু পত্রিকা নয়, এই মুক্তকণ্ঠ নাগরিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে। শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ অনুকরণীয়।’

লালমনিরহাট নদীভাঙা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান বলেন, ‘মুক্তকণ্ঠের সব কাজই ভালো, তারা তৃণমূল মানুষের কথা তুলে ধরে, সমাজের অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরে সচেতনতা সৃষ্টি করে, জনমত গড়ে তোলে, আবার শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করে।’

শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা। পাশাপাশি বিকাশে সহায়তার অর্থ পাঠাতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপে ডোনেশন অপশনের মাধ্যমেও অনুদান পাঠাতে পারেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের ত্রাণ তহবিলে ইলেক্ট্রোমার্ট লিমিটেডের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্নজন দিয়েছেন ৮৫ হাজার টাকা।