জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির চাপের মধ্যেই ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে একটি জাহাজ আজ বৃহস্পতিবার দেশে পৌঁছেছে। ইউনিপেক নামের চীনের একটি প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের জাহাজে এই জ্বালানি সরবরাহ করেছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে সরবরাহ সূচিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও নতুন এই চালান কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, জাহাজে আনা ডিজেল পরিবহন ও শিল্প খাতে ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হবে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে বিলম্বের কারণে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। এ মাসে তেল নিয়ে ১৭টি জাহাজ দেশে আসার কথা ছিল। এর আগে এসেছে আটটি। আজ এল একটি। ছয়টি জাহাজের সূচি অনিশ্চিত।

.হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলতে পারবে বাংলাদেশসহ ৫ দেশের জাহাজ: ইরান .

জাহাজ আসার বিষয়টি মুক্তকণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান। তিনি বলেন, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ডিজেল ও জেট ফুয়েল নিয়ে জাহাজটি আজ সকালে দেশে এসেছে। এখন জ্বালানিসংকট নেই। বিকল্প উৎস থেকেও তেল সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

বিপিসি সাধারণত সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) চুক্তি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করে থাকে। বছরে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। মোট চাহিদার ২০ শতাংশ অপরিশোধিত আকারে এনে দেশে পরিশোধন করা হয়, বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয়। ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়াসহ আটটি দেশ থেকে।

.দুটি ডিজেলবাহী জাহাজ আনতে বাড়তি ব্যয় ৩৩০ কোটি টাকা .

দেশে জ্বালানি ব্যবহারের বড় অংশই ডিজেলনির্ভর। কৃষি সেচ, সড়ক পরিবহন, এমনকি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ডিজেলের ওপর নির্ভরতা বেশি। তাই ডিজেলের বাজারে চাপ বাড়লে তার প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ১৩ দিনের ডিজেল ও ২৫ দিনের জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে। এপ্রিলে সমুদ্রপথে ১৪টি জাহাজ এবং পাইপলাইনে ৩টি পার্সেলের মাধ্যমে মোট ৩ লাখ টন ডিজেল, ৫০ হাজার টন জেট ফুয়েল, ২৫ হাজার টন অকটেন এবং ৫০ হাজার টন ফার্নেস তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল এবং পাইপলাইনে ২০ হাজার টন সরবরাহের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। মে মাসে ১৭টি জাহাজে সাড়ে তিন লাখ টন ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি আসার সূচি ঠিক করা হয়েছে। তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো চূড়ান্ত মত দেয়নি।