খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে ১৫ প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনেরই মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আজ শনিবার যাচাই–বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত জানান জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আনোয়ার সাদাত। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া ভোটার তালিকায় গরমিল থাকা, সমর্থকেরা প্রার্থীকে না চেনাসহ বিভিন্ন কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিএনপির নির্বাহী সদস্য সমীরণ দেওয়ান। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাঁর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া ১০ জন ভোটারকে ফোন করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। তাঁদের দুজন জানান, সমীরণ দেওয়ানকে তাঁরা চেনেন না। এ কারণে তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়।
বাতিল হওয়া বাকি সাতজন হলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা আনোয়ার হোসাইন মিয়াজী, গণ অধিকার পরিষদের দীনময় রোয়াজা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. মোস্তাফা, স্বতন্ত্র প্রার্থী সন্তোষিত চাকমা, লাব্রিচাই মারমা ও জিরুনা ত্রিপুরা। তাঁদের মধ্যে স্বতন্ত্র তিনজনের ১ শতাংশ সমর্থক না থাকা আর বাকিদের প্রয়োজনীয় নথি না থাকায় বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়।
মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ সমীরণ দেওয়ান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। যাচাই–বাছাইয়ে যেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা আমি মেনে নিতে পারছি না। আমি নির্বাচন কমিশনে আপিল করব।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা আনোয়ার হোসাইন মিয়াজী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমার সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি আমি বুঝতে পারছি না।’
এদিকে যাচাই শেষে সাত প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁরা হলেন বিএনপির প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামীর মো. এয়াকুব আলী, জাতীয় পার্টির মিথিলা রোয়াজা, ইসলামী আন্দোলনের মো. কাউসার, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. নুর ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্ম জ্যোতি চাকমা ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির উশোপ্রু মারমা।
জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তাঁদের সবাই নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।’






