প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন নগরবাসী। আজ শনিবার ট্রেনে ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেক অভিভাবক ছেলেমেয়েদের নিয়ে আগেভাগে বাড়ি ফিরছেন। তবে ঈদযাত্রা হলেও কমলাপুর রেলস্টেশনে তেমন ভিড় দেখা যায়নি।

কমলাপুর থেকে সিলেটগামী জয়ন্তীকা এক্সপ্রেস আজ বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ছাড়ে। এর ১০ মিনিট পর ছেড়ে যায় তারাকান্দিগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস। দুটি ট্রেনই সময়মতো ছেড়ে যাওয়ায় স্বস্তির কথা জানিয়েছেন ঘরে ফেরা মানুষেরা।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী ফারুক মিয়ার সঙ্গে। এখনো তাঁর অফিস ছুটি হয়নি। সন্তানদের স্কুল বন্ধ হওয়ায় পরিবারকে আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিতে এসেছেন। মুক্তকণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘ভোগান্তি হয়নি। টিকিট সহজে কাটতে পেরেছি। ট্রেনও ঠিক সময়ে ছাড়ল।’

ঈদ উদ্‌যাপন করতে অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসে একসঙ্গে গফরগাঁও যাচ্ছেন মাদ্রাসার ১১ শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে বয়সে বড় আহমদ আমিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, প্রতিবার মাদ্রাসা ছুটি হলে তাঁরা এভাবেই বাড়ি যান। এবার টিকিট কাটতেও কোনো সমস্যা হয়নি।

আজ সকাল ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ভিড় নেই। ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া পাঁচটি আন্তনগর ট্রেনও নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়েছে। নির্দিষ্ট ট্রেন ছাড়ার আগমুহূর্তে প্ল্যাটফর্মগুলোয় যাত্রীরা জড়ো হয়েছেন। ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার পরপরই আবার প্ল্যাটফর্ম ফাঁকা হয়ে গেছে। ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোয় সিটের বাইরে অতিরিক্ত যাত্রীও চোখে পড়েনি।

ভোগান্তি হতে পারে ভেবে আগেভাগেই স্টেশনে এসেছেন ঢাকার একটি কলেজের শিক্ষার্থী হারুন অর রশিদ। মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের টিকিট কাটা হারুন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদের সময় রাস্তায় যানজট হয়। তাই আগেভাগে স্টেশনে এসেছি। অনেক দিন পর বাড়ি যাচ্ছি, একটু এক্সাইটমেন্টও আছে।’

ঘরমুখী মানুষের নিরাপত্তায় কমলাপুর রেলস্টেশনে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে।