শতাধিক শিক্ষককে নিয়ে আয়োজন করা হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সংবর্ধিত শিক্ষকদের একজন ছিলেন নুরুল হক আলকাদেরী (৬৫)। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সম্মাননা ও উপহার গ্রহণ করে রাতে বাসায় ফেরেন তিনি। তবে এরপর গভীর রাতে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় তাঁর। অনুষ্ঠানের পরপরই শিক্ষকের এই চলে যাওয়ায় শোকে স্তব্ধ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা।
গতকাল শনিবার গভীর রাতে মৃত্যু হয় নুরুল হক আলকাদেরীর। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব ডোংরা গ্রামে। তবে পরিবার নিয়ে তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে থাকেন। সেখানে হাটহাজারী আনোয়ারুল উলুম হোসাইনিয়া মাদ্রাসায় ১৯৯৩ সাল থেকে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি।
হাটহাজারীর মাদ্রাসাটিতে শিক্ষকতা শুরুর আগে তিনি ৯ বছর বাঁশখালীর বি বি চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক হিসেবেই তিনি গতকালের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটিতে অংশ নেন। উপজেলার এসএসসি ব্যাচভিত্তিক সংগঠন ‘এসএসসি ব্যাচ ৯২ বাঁশখালী’ চট্টগ্রাম নগরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষককে গতকাল নগরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সাবেক সহকর্মীদের সঙ্গে সেখানে অংশ নেন নুরুল হক আলকাদেরী। অনুষ্ঠানে দিনভর সাবেক সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপে মেতে ছিলেন। পরে রাতে হাটহাজারীর বাসায় ফেরেন।
বি বি চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এইচ এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘অনুষ্ঠানস্থলে স্যার আমাকে বুকে জড়িয়ে মাথায় হাত রেখে স্নেহ করেছেন। অনুষ্ঠানের পরপর স্যারের এমন মৃত্যু মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে।’
শিক্ষক নুরুল হক আলকাদেরীর ছেলে আজিজুল হক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, তাঁর বাবা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিয়ে উচ্ছ্বাসিত ছিলেন। তবে বাসায় ফেরার পর গভীর রাতে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে।
বি বি চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নন্দিতা রানী দাশ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘১৯৯২ সালের শেষের দিকে তিনি এ বিদ্যালয় ছেড়ে যান। এর আগে ৯ বছর এখানে শিক্ষকতা করেছেন। এলাকায় শত শত শিক্ষার্থী আছে তাঁর। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত।’






