বগুড়া জেলা বিএনপির এক নেতাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তিন লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে শাজাহানপুর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (শাজাহানপুর আমলি আদালত) আদালতের বিচারক আবু হেনা সিদ্দিকীর আজ সোমবার এ নির্দেশ দেন। এর আগে আদালতে হাজির হয়ে ওসি আলমগীর হোসেন জামিনের আবেদন জানালে তা নামঞ্জুর করেন বিচারক। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আলমগীর হোসেনকে পুলিশের চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

বগুড়া আদালত পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সাবেক ওসি আলমগীরের বিরুদ্ধে গত বছর আদালতে করা একটি চাঁদাবাজির মামলায় সশরীর হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করে সমন জারি করেন আদালত। আলমগীর হোসেন আজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে তা নামঞ্জুর করে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির সহপ্রকাশনা–বিষয়ক সম্পাদক, শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং খড়না ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে ছিলেন ফজলুল হক (উজ্জল)। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ট্রাক পরিবহনের ব্যবসা করেন। তাঁর নামে থানায় কোনো মামলা না থাকলেও শাজাহানপুর থানার তৎকালীন ওসি আলমগীর হোসেন বিএনপি নেতা ফজলুল হকের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় ফজলুল হককে আটক করে থানায় নেওয়ার পর ক্রসফায়ার ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা পেলে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ারও প্রতিশ্রতি দেন। পরে তিন লাখ টাকায় রফা হয়। কিন্ত টাকা বুঝে পাওয়ার পরও একটি পুরোনো রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ওসি আলমগীর হোসেন বিএনপি নেতা ফজলুল হককে আদালতে পাঠান।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন ফজলুল হক। আদালত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জেলা পুলিশকে নির্দেশ দেন। বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত আলমগীরের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।

ফজলুল হক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর চাঁদাবাজির তিন লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নানাভাবে টালবাহানা করছিলেন আলমগীর হোসেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাকা না দেওয়ায়, তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করতে বাধ্য হই।’