গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার লাইফ কেয়ার হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগের তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

আজ সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এ তথ্য মুক্তকণ্ঠকে নিশ্চিত করেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ।

.শ্রীপুরে প্রসূতির মরদেহ রেখে হাসপাতালের কর্মীদের পালানোর অভিযোগ.

অন্যদিকে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি মুক্তকণ্ঠকে জানান গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন মামুনুর রহমান। কমিটিতে আছেন, কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনসালট্যান্ট, গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এক চিকিৎসক ও কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার কথা আছে।

মামুনুর রহমান বলেন, ২০২২-২৩ সালের পর লাইফ কেয়ার হাসপাতালটির লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে সেখানে গিয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতাল সিলগালা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিহত রোগীর স্বজনেরা হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান নেওয়ায় সেটি তাৎক্ষণিক সম্ভব হয়নি। তাই হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামুনুর রহমান আরও জানান, তিনি বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দপ্তরে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

.

গত রোববার রাত ১০টার দিকে ওই হাসপাতালে রুমা আক্তার (২৫) নামের এক প্রসূতির অস্ত্রোপচার হয়। পরে রাত ২টার দিকে হাসপাতাল থেকে তাঁকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। আজ সোমবার সকালে হাসপাতালের সামনে প্রসূতির মরদেহ রেখে পালিয়ে যান চিকিৎসক, নার্সসহ অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ২০২২ সালের ২৩ জুলাই বিভিন্ন ওই লাইফ কেয়ার হাসপাতালকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিগত ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল ইয়াসমিন আক্তার নামের এক নারীর ভুল চিকিৎসার অভিযোগ আছে। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনেরা হাসপাতাল ভাঙচুর করেন।

.

বারবার শাস্তির মুখে পড়েও আবার কীভাবে হাসপাতাল চালু হয়—এমন প্রশ্ন তোলে শ্রীপুরের ইউএনও সজীব আহমেদ মুক্তকণ্ঠকে জানান, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রোগীর স্বজনেরা মামলা করেন না। এতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়। এবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।