২০০৭ সালের ৭ মার্চ – বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অন্ধকারময়, কলঙ্কজনক দিন। সেনা-সমর্থিত বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের (১/১১-এর জরুরি অবস্থা) আমলে, কোনো আদালতি ওয়ারেন্ট ছাড়া, কোনো মামলা ছাড়া, কোনো জিডি বা এমনকি সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়াই রাতের অন্ধকারে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মইনুল রোডের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরী, বর্তমানে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানকে।
এই গ্রেপ্তার ছিল কোনো সাধারণ আইনি প্রক্রিয়া নয় – এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের মূল লক্ষ্য ছিলেন তারেক রহমান – কারণ তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী শক্তির ভবিষ্যৎ, তরুণ প্রজন্মের আইকন, উন্নয়ন-দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক এবং বিএনপির অটুট নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি। গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করতে, বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করতে এবং জিয়া পরিবারকে দুর্বল করতে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অর্থ পাচার – এমন অভিযোগে তাঁকে জেলে ঢোকানো হয়, কিন্তু দেশ-বিদেশে (এমনকি FBI, ACC, সিঙ্গাপুর কোর্টসহ) বছরের পর বছর অনুসন্ধান চালিয়েও একটি অভিযোগও প্রমাণ করতে পারেনি তারা।
গ্রেপ্তারের পর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন – ১২ বার রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া হয়। সুস্থ শরীরে গ্রেপ্তার হলেও জেল থেকে মুক্তি পান হুইলচেয়ারে, স্পাইনাল কর্ড ড্যামেজ নিয়ে – যা তাঁর জীবনকে চিরতরে বদলে দেয়। কিন্তু এই নির্যাতনও তাঁকে ভাঙতে পারেনি। তিনি অটুট থেকেছেন, বিএনপিকে সংগঠিত করেছেন, তৃণমূলকে শক্তিশালী করেছেন এবং জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।
আজ, ২০২৬ সালের মার্চে দাঁড়িয়ে আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি – সেই কালো দিনের ষড়যন্ত্রকারীরা ব্যর্থ হয়েছে। দেশনায়ক তারেক রহমান ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন (৯ জানুয়ারি ২০২৬), এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির বিপুল বিজয়ের পর বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি আজ দেশকে নতুন দিশা দিচ্ছেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করছেন, অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করছেন এবং জনগণের স্বপ্ন পূরণ করছেন।
এই ৭ মার্চে আমরা স্মরণ করি সেই অমানবিক অধ্যায়কে – কিন্তু আরও বেশি করে উদযাপন করি দেশনায়কের অদম্য সাহস, অটল বিশ্বাস এবং চূড়ান্ত বিজয়কে। ষড়যন্ত্র-নির্যাতন-মিথ্যা মামলা সবকিছুকে ছিন্নভিন্ন করে তিনি উঠে এসেছেন জাতির শীর্ষে। দেশনায়ক তারেক রহমান – আপনি আমাদের গর্ব, আমাদের আশা, আমাদের ভবিষ্যৎ!






