দিবাগত রাত তিনটা। খামারের দরজায় ঠকঠক শব্দ। ওপাশ থেকে একজন বলেন—‘আমরা পুলিশের লোক, থানা থেকে এসেছি। দরজা খোলেন।’ ঘুমঘুম চোখে দরজা খুলতেই খামারির কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে খামারে থাকা একটি মোটরসাইকেল, দুটি মুঠোফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয় ডাকাতদল।

গতকাল শুক্রবার রাতে মিরসরাই উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নের উকিলটোলা গ্রামের একটি মুরগির খামারে এ ঘটনা ঘটেছে। খামারটির মালিক ওই এলাকার আরাফাতুজ্জামান ও মো. ফয়সাল খান নামের দুই তরুণ। ডাকাতির সময় দুই তরুণই খামারে ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছয় মাস আগে দুই বন্ধু আরাফাতুজ্জামান ও মো. ফয়সাল খান নিজেদের বাড়ির পাশে খামার ভাড়া নিয়ে প্রায় তিন হাজার ব্রয়লার মুরগি পালন শুরু করেন। রাতে তাঁরা খামারটিতে অবস্থান করে পরিচর্যার কাজ করতেন। গতকাল রাতে আরাফাতুজ্জামান শুয়ে পড়লেও ফয়সাল খান মুরগিকে খাবার দিচ্ছিলেন। তখন তিনি দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনতে পান। পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পর দরজা খুলতেই এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতিতে প্রায় সাত থেকে আটজন অংশ নেন। ডাকাতি শেষে ডাকাতদলের সদস্যরা ফয়সাল ও আরাফাতুজ্জামানকে খামারের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে পালিয়ে যান। এরপর ওই দুজনের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করেন।

ভুক্তভোগী খামারি আরাফাতুজ্জামান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘নিজের গ্রামে খামারের ভেতর এভাবে ডাকাতের কবলে পড়ব, তা কখনো ভাবিনি। দিবাগত রাত তিনটার দিকে পাঁচ ডাকাত সদস্য ঘরে ঢোকেন, বাইরে আরও বেশ কয়েকজন পাহারায় ছিলেন। তাঁরা আমাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি করেছেন। মালামালের পাশাপাশি দুজনকে বিকাশ পাসওয়ার্ড, ব্যাংকের ডেবিট কার্ডের পাসওয়ার্ড বলতেও বাধ্য করেছেন। এ ঘটনায় আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ করব।’

জানতে চাইলে মিরসরাই থানার উপপরিদর্শক (সেকেন্ড অফিসার) শরিফুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’