রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে এসে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২২ বছর বয়সী এক তরুণী। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার এক ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গতকাল শনিবার মধ্যরাতে ওই তরুণী বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পাংশা মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। আজ রোববার বিকেলে পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকার বিষয়টি মুক্তকণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত মাস আগে টিকটকের মাধ্যমে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের এক তরুণের সঙ্গে পরিচয় হয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ওই তরুণীর। তাঁদের মধ্যে কথোপকথনের একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ওই তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন ওই তরুণ। কিন্তু তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ভুল–বোঝাবুঝির জেরে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তাঁদের সম্পর্কে ফাটল ধরে। এরপর প্রেমিকের বন্ধুরা মিলে ওই তরুণীকে শিক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রেমিকের বন্ধুরা ওই তরুণীকে ফোন করে সজলের সঙ্গে বসে সমঝোতার কথা জানান। প্রেমিকের বন্ধু আকাশ মণ্ডল তাঁকে ফোন করে পাংশায় আসতে বলেন ও সজলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত আকাশ মণ্ডলের কথামতো গত শুক্রবার পাংশায় আসেন ওই তরুণী। পরে তরুণীকে উপজেলার একটি ইউনিয়নের একটি সরকারি আশ্রয়ণকেন্দ্রের কক্ষে রাখেন। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আকাশ মণ্ডল (২৯) ও তাঁর বন্ধু জামাল মণ্ডল (২২) ওই তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন। এ সময় ওই তরুণীর কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেন। পরে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় ওই তরুণী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে পরদিন শনিবার পাংশা মডেল থানার পুলিশকে বিষয়টি জানান।
রাজবাড়ীর সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত সরকার বিকেলে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ধর্ষণের শিকার তরুণী গতকাল শনিবার মধ্যরাতে দুজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।






