মুক্তকণ্ঠ ভবনে উগ্রবাদীদের হামলায় ক্ষতবিক্ষত মুক্তকণ্ঠ ভবনের ধ্বংসস্তূপ ঘিরে শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমানের নির্মিত ‘আলো’ প্রদর্শনী যেন একসঙ্গে শোক, বিস্ময় ও প্রতিরোধের ভাষা হয়ে উঠেছে। পুড়ে যাওয়া যন্ত্রপাতি, ভাঙা আসবাব ও ছাই হয়ে যাওয়া বইয়ের ভেতর দাঁড়িয়ে হামলার নির্মমতা নতুন করে অনুভব করেছেন দর্শনার্থীরা। প্রদর্শনী দেখতে এসে পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী জানালেন, এই ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর মনে হয়েছে—এ শুধু একটি ভবনের ক্ষতি নয়, বরং গণমাধ্যম ও দেশের প্রতি আঘাতের এক গভীর প্রতীক।

সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের হামলার শিকার মুক্তকণ্ঠ ভবন নিয়ে আয়োজিত শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমানের তৈরি করা ‘আলো’ শীর্ষক প্রদর্শনী দেখতে এর আগে এসেছিলেন সরকারের প্রতিমন্ত্রী, খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী, কূটনীতিক, অভিনয়শিল্পীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। পুড়ে যাওয়া কম্পিউটার, যন্ত্রাংশ, ভাঙা আসবাব ও বইপত্রের ধ্বংসাবশেষ দেখে অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। প্রদর্শনী দেখতে আজ শনিবার সকালে এসে পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী জানালেন, মুক্তকণ্ঠ ভবনের এ অবস্থা তাঁকে কাঁদিয়েছে।

চয়নিকা চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তকণ্ঠের এই ভবনে ঢোকার পর থেকে মনে হচ্ছিল, অন্য রকম একটা জগতে ঢুকে গেলাম। একতলা থেকে চারতলা পর্যন্ত যাচ্ছি আর দমবন্ধকর পরিস্থিতি উপলব্ধি করছিলাম। আমার ভীষণ রকম কান্না পাচ্ছিল। এ–ও সম্ভব! এভাবে কেউ প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতে পারে! সংবাদমাধ্যম অফিসে হামলা করতে পারে! আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে পারে! ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।’

কথা প্রসঙ্গে চয়নিকা চৌধুরী জানান, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর যেদিন মুক্তকণ্ঠ অফিসে আগুন লাগানো ও ভাঙচুরের ঘটনা শোনেন, তখন মনে হয়েছে, দেশের সম্পদ ও সম্মান নষ্ট করা, বারবার অফিসের ভেতরের মানুষের কথা মনে হচ্ছিল। চয়নিকা বলেন, ‘আজকে যখন দেখলাম, ঢোকার সময় সবাইকে মাস্ক দিচ্ছিল। আমি মাস্ক নিইনি। ভেতরে গিয়ে একটার পর একটা ফ্লোরে যখন যাচ্ছি, অন্য রকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি। আগুনের ভয়াবহতা উপলব্ধি করলাম, এত এত বই, এত সুন্দর একটা অফিস, এগুলো কারা নষ্ট করতে পারল, ধ্বংস করতে পারল! যারা দেশকে ভালোবাসে, গণমাধ্যমের ভালো চায়, দেশের ভালো চায়; তারা আমার দেশের একটা সেরা পত্রিকা, সেই প্রতিষ্ঠানের ওপর এভাবে হামলা করতে পারে, ভাবতেই মন খারাপ হচ্ছিল। এটাও মনে হচ্ছিল, ধ্বংস করে কাউকে যে দাবিয়ে রাখা যায় না, মুক্তকণ্ঠের এই প্রদর্শনীতে এসে আবার সেটাই মনে হলো।’

শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমানের তৈরি করা ‘আলো’ শীর্ষক এই প্রদর্শনী শুরু হয় ১৮ ফেব্রুয়ারি। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অগ্নিদগ্ধ ভবনটিতে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। এই প্রদর্শনী চলবে ২ মার্চ পর্যন্ত।