জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর পরিত্যক্ত থাকা আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা–কর্মীরা। এমন একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মতিন খানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতা–কর্মী আমতলী উপজেলা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে পতাকা উত্তোলন করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মতিন খানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও বর্তমানে যুবলীগের কর্মী টিপু এবং মশিউর রহমান লিটন শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যানার টানান। পরে কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময়ের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মতিন খান হোয়াটসঅ্যাপে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। বৈঠকে শেখ হাসিনার নির্দেশ ছিল, ভাঙা, দখলকৃত বা পোড়া অবস্থায় থাকা দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও ব্যানার টাঙিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে হবে। এটা আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। আমরা হামলা-মামলায় ভয় করি না। নেত্রী আদেশ দিলে আমরা আবারও রাজপথে নামব।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আমতলী উপজেলা কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও ব্যানার টাঙানোর বিষয়ে বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হুমায়ুন হাসান শাহীন মুক্তকণ্ঠকে জানান, যেহেতু সরকারিভাবেই এই দল কার্যক্রম নিষিদ্ধ। তারা এখন চাইছে রাষ্ট্রে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য। সরকারের সব পদক্ষেপকে তারা ম্লান করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আমরা দলীয় নেতা–কর্মীদের সতর্ক থাকারও নির্দেশ দিয়েছি। আমাদের দলীয় নির্দেশনা রয়েছে কোনো ধরনের মব সৃষ্টি না করে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা–কর্মীদের পাওয়া গেলে তাঁদেরকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার জন্য। তাঁদেরকে ধরার জন্য পুলিশও তৎপর রয়েছে।’
এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। এ কাজে জড়িতদেরকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর বরগুনা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে তালাবদ্ধ করা হয়। এর পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীরা আত্মগোপনে ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এসব নেতা–কর্মীদের অনেকেই আবার সরব হয়েছেন।






