গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। দেশে ক্রিয়াশীল প্রায় সব রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগকে গণহত্যার দায়ে নির্বাচনের বাইরে রাখার পক্ষে অবস্থান নিলেও দলটির সমর্থকদের ভোট পক্ষে নিতে চায় প্রতিদ্বন্দ্বী সব দল। এ নিয়ে আসনভিত্তিক নীরব প্রতিযোগিতা চলছে বলে জানা গেছে।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ একাধিক দল মনে করছে, নিজেদের সমর্থকদের বাইরে আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারদের পক্ষে টানতে পারলে সেটা জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের ভোট টানতে নানা কৌশল নিচ্ছে দলগুলো। কোথাও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের দলে ভেড়ানো, কোথাও মামলা-নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর পক্ষ থেকে। ভোটের প্রচার শুরু হলে আরও নানা কৌশল দেখা যেতে পারে।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ‘যে নির্বাচনে নৌকা নেই, সেই নির্বাচনে ভোট নয়’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রচার চালানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের মিত্র ১৪-দলীয় জোটের শরিকেরাও এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্র দলের কর্মী-সমর্থকদের একটা অংশ হয়তো ভোট দিতে যাবে না। এরপরও আওয়ামী লীগের নীরব সমর্থক-ভোটারকে কেন্দ্রে এনে নিজের পক্ষে রাখতে পারলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সম্ভাবনা কিছুটা হলেও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনকে সব দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। ওই চার নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পেয়েছে ৩০.০৮ শতাংশ, ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৭.৪৪ শতাংশ, ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০.১৩ শতাংশ ও ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৮.০৪ শতাংশ। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের অধীন ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনই ছিল ব্যাপক কারচুপিপূর্ণ ও প্রশ্নবিদ্ধ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের পতনের পর এখন আওয়ামী লীগের ভোট আসলে কত—সেটা কারও পক্ষে নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। কারণ, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাসহ অধিকাংশ নেতা পলাতক অথবা কারাগারে। সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরও একই অবস্থা। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সর্বশেষ তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের কারণে আওয়ামী লীগের প্রতি ভোটারদের ক্ষোভ তৈরি করেছে। এমনকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনও ছিল অনিয়ম-জবরদখলে ভরপুর। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের জনসমর্থন অনেকটাই কমে গেছে বলে অনেকে মনে করেন।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, আওয়ামী লীগের ভোট কারা পাবে, সেটি নির্ভর করছে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। প্রথমত, দলটির আদর্শের কাছাকাছি যদি কোনো প্রার্থী থাকে, তাঁদের ভোট দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট আসনে ভোটারদের সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রার্থীর সম্পর্কের ওপর নির্ভর করবে। তৃতীয়ত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রার্থী বা তাঁদের কর্মীরা আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর কতটা বৈরী আচরণ করেছেন, সেটাও বিবেচনা থাকবে। এর বাইরে কেন্দ্রীয়ভাবে যদি কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়, সেটা বড় ভূমিকা রাখবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবে প্রমাণিত, তার শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে শাস্তিপ্রাপ্ত। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে নিশ্চয় চেতনার উদয় হয়েছে যে তাদের দলটির পক্ষে থাকা ঠিক হবে না। তাদের ভবিষ্যৎও নেই। ফলে দেশপ্রেমিক লোকজন বিএনপির মতো স্বাধীনতার ঘোষকের দল, দেশপ্রেমিকদের পক্ষে চলে আসবে তারা। তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে সামাজিক মিটমাট (রিকনসিলিয়েশন) হয়ে গেছে। শহরে হয়তো ততটা হয়নি। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দল-মতনির্বিশেষে সবাই এখন ভোটের দিকে যাচ্ছে।
গত ২৩ ডিসেম্বর ডেইলি স্টার–এর পক্ষ থেকে করা নির্বাচনবিষয়ক এক সংলাপে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগের ভোট নিজেদের বাক্সে নেওয়ার জন্য বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তিনি বলেন, ‘এখন এই যে ভোটটা নেবে, তার তো কিছু সিম্পটম দেখাইতে হবে। তখন তাকে বলা হচ্ছে মামলা উইথড্র করে দেবে।’
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে, শেখ হাসিনার সরকারের পতনে নেতৃত্ব দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। যাঁরা পরে এনসিপি গঠন করেন। স্বভাবতই আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ এনসিপির প্রতি।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ দাবিতে সোচ্চার ছিল জামায়াত, এনসিপিসহ অন্য দলগুলো। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে বিভিন্ন সময় বিএনপির নেতাদের বক্তব্য ছিল, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে নন। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার আন্দোলনে বিএনপি অংশ নেয়নি। তবে সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর তা সমর্থন জানায় বিএনপি। বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিএনপিতে যোগ দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সরকার পতনের ঠিক আগে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়। জামায়াতকে শত্রু হিসেবেই বিবেচনা করে আওয়ামী লীগ। ১ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লতিফুর রহমান ঘোষণা দেন, আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে যোগ দিলে তাঁরা সব দায়দায়িত্ব নেবেন। লতিফুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দলে আপনারা আওয়ামী লীগ থেকে আসবেন। আপনাদের সব দায়দায়িত্ব আমরা নেব। জেলখানা, নবাবগঞ্জ থানা, যেকোনো দায়দায়িত্ব আমরা নেব ইনশা আল্লাহ।’
এর আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়াতে থানায় যান জামায়াতের নেতা। গাজীপুরের আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়াতে থানায় বিক্ষোভ মিছিল করেন জামায়াতের নেতা-কর্মীরা।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী শিশির মনির আসন্ন নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের মানুষ নিয়ে। এর মধ্যে হিন্দুধর্মাবলম্বী ছিলেন কয়েকজন। এই আসনে দীর্ঘদিন সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। আগামী নির্বাচনে সুরঞ্জিত সেনের সমর্থকদের পক্ষে টানার চেষ্টা চালাচ্ছেন শিশির মনির।
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দিক থেকে আওয়ামী লীগের ভোট টানার চেষ্টাকে খারাপভাবে দেখেন না এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। তবে যে প্রক্রিয়ায় এটা করা হচ্ছে, সেটা সঠিক হচ্ছে না বলে মনে করেন তিনি। আরিফুল ইসলাম আদীব মুক্তকণ্ঠকে বলেন, আওয়ামী লীগের ভোট আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন দলের নেতাদের নানা বিতর্কিত কথাবার্তা বলতে দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে থাকা মামলা তুলে নেওয়ার কথাও বলছেন। এটা জুলাই গণহত্যাকে একরকম বৈধতা দেওয়ার শামিল। প্রার্থীদের কাজের মাধ্যমে ভোট আকৃষ্ট করার চেষ্টাকে সমর্থন করে এনসিপি। অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা করে ভোট টানার চেষ্টা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।
হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বড় অংশই আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দেন—এমন একটা ধারণা দীর্ঘদিন থেকেই প্রচলিত। আওয়ামী লীগের নেতারাও হিন্দু সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ওপর অনেকাংশে ভরসা করতেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত হিন্দু প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে সংখ্যালঘুদের ভোট টানার কৌশল নিয়েছে।
জামায়াতে অতীতে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অন্তর্ভুক্তির কথা শোনা যায়নি। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি গঠন করতে দেখা যায়।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হচ্ছেন ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী। যদিও শুরুতে এই আসনে বটিয়াঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির শেখ আবু ইউসুফকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল জামায়াত। এই আসনে হিন্দু জনগোষ্ঠী বেশি। অতীতে বহুবার আওয়ামী লীগের এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা সংসদ সদস্য হয়েছেন। কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের শ্যালক কর্নেল (অব.) জিহাদ খানকে। অবশ্য তিনি আগে থেকেই জামায়াতের রাজনীতি করেন। তবে এর পেছনে আওয়ামী লীগের ভোট টানার কৌশল থাকতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, আওয়ামী লীগ এখন নির্বাচনের অযোগ্য দল। নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারবে না। তবে তাদের সমর্থকদের ভোটাধিকার থাকা উচিত। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনীতির পরিবর্তন ঘটেছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা সুবিবেচনাপ্রসূত হয়েই তাঁদের পছন্দের মানুষকে ভোট দেবেন বলে আশা করা যায়।
বিএনপি এবার বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী) আসনে কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল ও বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ) আসনে সোমনাথ দে-কে দলীয় প্রার্থী করেছে। তাঁরা দুজনই আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব এবং বাংলাদেশ অশ্বিনী সেবা আশ্রমের সভাপতি। তিনি চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন। অন্যদিকে সোমনাথ দে মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সভাপতি। তিনি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি ছিলেন। মোরেলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন আহমেদ। তিনি আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। এটি নিয়ে বিএনপির ভেতর থেকেই নানা সমালোচনা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের পতনের পর ‘পরিশুদ্ধ’ বা ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগের ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়। তবে তা আর এগোয়নি। মনে করা হয়েছিল আওয়ামী লীগের অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন নেতারা স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন। তা–ও খুব একটা হয়নি। ফলে ভোটে অংশ নেওয়া দলগুলো নিজেদের মতো করে আওয়ামী লীগের ভোটারদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছে। এতে সফল হলে একদিকে ভোটের হার বাড়বে; অন্যদিকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না মনে করেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ভোট প্রয়োগ করতে গেলে সেটা একটা বড় ফ্যাক্টর হবে। তবে এ রকমটা হয়তো হবে না। বিচ্ছিন্নভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা ভোট দিতে পারেন। সেটা অল্প ভোটের ব্যবধানে যেসব আসনে ফল নির্ধারিত হয়, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
মাহমুদুর রহমান মান্না আরও বলেন, স্বাধীনতার পর মুসলিম লীগের এবং এরশাদের পতনের পর জাতীয় পার্টির ভোট টানার চেষ্টা হয়েছে। এগুলো নতুন কিছু না। কারণ, রাজনৈতিক দলগুলো সংখ্যা বিবেচনা করে। মূল্যবোধের কোনো বিষয়ে কাজ করে না। এবারও আওয়ামী লীগের ভোট নিয়ে টানাটানি হওয়া স্বাভাবিক।






