সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন পেতে তৎপরতা শুরু করেছেন টাঙ্গাইলে বিএনপির পাঁচজন নেত্রী। ইতিমধ্যে তাঁরা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে বিগত দিনে দলে নিজেদের অবদান ও ত্যাগের কথা তুলে ধরছেন তাঁরা।

তৎপরতা শুরু করা নারী নেত্রীদের মধ্যে আছেন জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য রাহেলা জাকির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফরোজা খন্দকার (নিপু), জেলা মহিলা দলের সভাপতি নিলুফা ইয়াসমিন খান, সাধারণ সম্পাদক রক্সি মেহেদী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মমতাজ করিম।

বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই নারী নেত্রীরা সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য তৎপরতা শুরু করেছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দলে তাঁদের অবদানের কথা তুলে ধরছেন।

আলোচিত পাঁচজনের মধ্যে রাহেলা জাকির রাজনীতির বাইরে একজন উন্নয়নকর্মী। ‘নারী উন্নয়ন সংস্থা’ নামের একটি বেসরকারি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছি। আশা করি, দল আমার কাজের মূল্যায়ন করবে।’

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী আফরোজা খন্দকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। তিনি ১৯৯০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশে চাকরি নেন। তাঁর স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হল ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস সাঈদ সোহরাব। সাঈদ সোহরাব বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক। তিনি টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

আফরোজা খন্দকারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, রাজনৈতিক কারণেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁকে বাংলাদেশ বিমানের ডিজিএম পদ থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী আফরোজা খন্দকারের মা খন্দকার রাবেয়া আনোয়ার টাঙ্গাইল জেলা মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তাঁর বাবা খন্দকার আনোয়ার হোসেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দুইবার চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর দাদা খন্দকার মজিবর রহমান একই ইউপির ছয়বার চেয়ারম্যান ছিলেন। আফরোজা খন্দকার এবারের নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে জনসংযোগ উপকমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেছেন।

আফরোজা খন্দকার বলেন, ‘দলের সঙ্গে যুক্ত থেকে অনেক বৈষম্যের শিকার হয়েছি। কিছু পাই বা না পাই, দলের আদর্শ থেকে সরে যাইনি। বাকি জীবন এ আদর্শ ধারণ করে দলের জন্য কাজ করে যেতে চাই।’

মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা মহিলা দলের সভাপতি নিলুফা ইয়াসমিন খান প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা হবিবর রহমান খানের মেয়ে। তিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও এবার টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান খানের বোন। নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমি বিগত দিনে মাঠে থেকে লড়াই–সংগ্রাম করেছি। টাঙ্গাইল জেলার প্রতিটি উপজেলায় সংগঠন গুছিয়েছি।’

জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মমতাজ করিম ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রক্সি মেহেদী টাঙ্গাইলে আইন পেশায় নিয়োজিত। রক্সি মেহেদী করটিয়া সরকারি সাদত কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদুল মান্নানের স্ত্রী। এ ছাড়া জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতানা বিলকিস লতাও মনোনয়নপ্রত্যাশী।

যোগাযোগ করলে জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, দলীয়ভাবে এখনো সংরক্ষিত আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। টাঙ্গাইল থেকে যাঁরা সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে করছেন। দলগতভাবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো নির্দেশনা পাননি।