রাজশাহীর প্রত্যন্ত অঞ্চল চরখিদিরপুর গ্রামের এক সংগ্রামী তরুণ মো. আরাফাত রহমান। সে রাজশাহী আলোর পাঠশালায় ১০ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। নদীর ওপার থেকে প্রতিদিন কষ্ট করে যাতায়াত করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে সে। আর্থিক সংকট, পারিবারিক দায়িত্ব আর নানা প্রতিবন্ধকতার মাঝেও তার চোখে একটাই স্বপ্ন—অনার্স শেষ করে একজন সফল ব্যবসায়ী হওয়া। তাদের ছোট্ট মুদিখানার দোকানটিকে বড় পরিসরে প্রতিষ্ঠিত করা।

আরাফাতের পরিবারে সদস্য সংখ্যা ছয়জন—বাবা, মা, দাদি, সে নিজে এবং দুই ছোট বোন। তার বাবা একজন পরিশ্রমী কৃষক। কৃষিকাজের পাশাপাশি একটি ছোট মুদিখানার দোকান চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালান। সীমিত আয় আর বাড়তে থাকা খরচের চাপের মধ্যেও পরিবারটি আরাফাতের পড়াশোনা থামিয়ে দেয়নি। কারণ তারা জানে, শিক্ষাই পারে এই দারিদ্র্যের চক্র ভাঙতে।

প্রতিদিন নদী পার হয়ে বিদ্যালয় ও কলেজে যাওয়া আরাফাতের জন্য সহজ নয়। বর্ষাকালে নদীর স্রোত বেড়ে গেলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। তবুও সে থেমে থাকেনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রমের মাধ্যমে সে তার শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। পরিবারকে সহযোগিতা করতে অবসর সময়ে বাবার দোকানেও সাহায্য করে সে।

আরাফাত জানায়, ‘মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট পরিচালিত রাজশাহী আলোর পাঠশালা আমার ও আমার পরিবারের ভরসার জায়গা। তাদের সহযোগিতা ও প্রেরণা আমার শিক্ষাজীবনকে আরও মজবুত ভিত্তি দিচ্ছে।’ আরাফাতের বিশ্বাস, একদিন সে একজন সফল ব্যবসায়ী হয়ে নিজের পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে পারবে এবং সমাজের জন্যও অবদান রাখতে পারবে।