‘আমরা আসলেই মানুষ না, অমানুষ! এভাবে কেউ একটি ভবনকে ধ্বংস করে? আমার কিছু বলার নেই। ভাবতেও লজ্জা হচ্ছে যে, আমি মানুষ।’
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের হামলা ও অগ্নিসংযোগের শিকার মুক্তকণ্ঠ ভবনে আয়োজিত শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘আলো’ দেখতে এ কথা বলেন ক্যাননের পরিবেশক জেএএন অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ এইচ কাফি। আজ প্রদর্শনীর সপ্তম দিন।
দুপুরে প্রদর্শনী দেখতে আসেন শিল্পী ঢালী আল মামুন। তিনি শিল্পী মাহ্বুবুর রহমানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই শিল্পকর্মে তথ্য, উপাত্ত, অর্থসহ অনেক কিছুর সংমিশ্রণ ঘটেছে। এসবের মাধ্যমে এ ঘটনা ইতিহাসের অংশ হয়েছে। তিনি মনে করেন, দর্শনার্থীরা যখন এই শিল্পকর্ম দেখছেন, তখন তাঁদের মধ্যেও একধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে।
মুক্তকণ্ঠের অগ্নিদগ্ধ ভবন ঘুরে দেখে এই শিল্পী বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানকে এভাবে আঘাত করা, গুঁড়িয়ে দেওয়াটা জবরদস্তি সংস্কৃতির অংশ। আর যেকোনো জবরদস্তিই সংকটজনক। যেটা আগেও হয়েছে, এখনো হচ্ছে।’ আজ প্রদর্শনী দেখতে আসেন আরেক চিত্রশিল্পী ওয়াকিলুর রহমান।
মুক্তকণ্ঠ ভবনে চলছে ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘আলো’। এই শিল্প–আয়োজন দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। পুড়ে যাওয়া কম্পিউটার, যন্ত্রাংশ, ভাঙা আসবাব ও বইপত্রের ধ্বংসাবশেষ দেখে অনেকেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়ছেন।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে একদল উগ্রবাদী মুক্তকণ্ঠ ভবনে হামলা করে ব্যাপক লুটপাট চালায়। এরপর ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
অগ্নিদগ্ধ এই ভবনে ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে বিশিষ্ট শিল্পী মাহ্বুবুর রহমানের শিল্প প্রদর্শনী ‘আলো’। অগ্নিদগ্ধ এই ভবনে আয়োজিত প্রদর্শনীটি চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সবার জন্য খোলা থাকবে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
কারওয়ান বাজারে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন সগর মীর। তিনি জানান, প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার পথে মুক্তকণ্ঠের অগ্নিদগ্ধ ভবনকে দেখে তিনি আবেগতাড়িত হন। তবে আজ ভেতরে প্রদর্শনী দেখতে এসে এই ধ্বংসস্তূপ তাঁকে স্তব্ধ করছে। তিনি দাবি জানান, যারা মব করে ভবন ধ্বংস করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এখনই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ, বিচার না হলে আজ মুক্তকণ্ঠ, কাল অন্য কারও ওপরে আক্রমণ হবে।






