১৫ দিন আগে অগ্নিকাণ্ডে বসতবাড়ির সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায় যশোর শহরের বারান্দিপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া আক্তারের। কাঁথা-বালিশ, তৈজসপত্র কিছুই অবশিষ্ট নেই। তীব্র শীতে ছোট্ট দুই মেয়েকে নিয়ে কষ্টে আছেন রাবেয়া। আজ শুক্রবার মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে তিনি একটি কম্বল পেয়েছেন।

কম্বল পেয়ে রাবেয়া আক্তার বলেন, ‘আগুনে আমাদের ঘরবাড়ি সব পুড়ে গেছে। শীতে গায়ে দেওয়ার মতো কোনো কাঁথা-কাপড় নেই। বাসাবাড়িতে কাজ করে পুরোনো কিছু কাপড় সংগ্রহ করেছি। তার সাথে এই কম্বলটি আমার ছোট ছোট দুই মেয়ের গায়ে দেব। আমাদের যত শীত লাগুক অন্তত সন্তান দুটো ভালো থাকুক।’

শুধু রাবেয়া খাতুন নন, তাঁর মতো অন্তত ১৭০টি পরিবারের সদস্য কম্বল পেয়ে তীব্র শীতে একটু হলেও উষ্ণতা খুঁজে পাবেন। আজ যশোর শহরের গোপ এলাকার জেল সড়কে মুক্তকণ্ঠ কার্যালয় ও কিসমত নওয়াপাড়া গ্রামে দুই দফায় অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের হাতে এই কম্বল তুলে দেওয়া হয়। মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টকে কম্বলগুলো দিয়ে সহযোগিতা করেছে ইলেক্ট্রোমার্ট লিমিটেড।

প্রথমে সকাল ১০টায় মুক্তকণ্ঠ কার্যালয়ে কম্বল বিতরণ করা হয়। ভৈরব নদের তীরবর্তী এলাকার অন্তত ১০০ মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে এলাকার আরও ৭০ জনের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়।

সদর উপজেলার রহেলাপুর গ্রামের বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘এই কম্বলডা পাইয়ে এট্টু বাইচে যাবানে। এ বছর পাতলা এট্টা কম্বল কিনিচি। কিন্তু যে শীত পড়ছে তাতে এই কম্বলে মানাচ্চে না।’

ভৈরবতীরের বাসিন্দা সাথী খাতুন বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমার একটি সন্তান হয়েছে। ছোট একটি কম্বল দিয়ে তাকে জড়িয়ে রাখি। সেটা ভিজে গেলে আমরা খুব অসহায় হয়ে যাই। তখন শিশু শীতে ভীষণ কষ্ট পায়। মুক্তকণ্ঠের দেওয়া কম্বলটি গায়ে দিয়ে আমার ছোট মেয়েটির শীত নিবারণ হবে। আমার স্বামী দিনমজুর। কম্বল কেনার মতো সামর্থ্য নেই।’

কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন, বিমা কর্মকর্তা আবুল কাশেম, মুক্তকণ্ঠ বন্ধুসভার উপদেষ্টা শাহেদ চৌধুরী, মুক্তকণ্ঠের প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম ও মাসুদ আলম, বন্ধুসভার সভাপতি লাকি রানী কাপুরিয়া, সাধারণ সম্পাদক রাইয়াদ ফেরদৌস হামিম, সহসভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, মনিরা খাতুন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিটন সাইদুর রহমান, হামিদা হিমু, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কৌশিক পারভেজ, বন্ধুসভার সদস্য রাশেদ, ইমা, সোমা সরকার, শাকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।