খলিফা ওমরের যুগে পারস্য বিজয়ের কাহিনি
খলিফা ওমরের আমলে সংঘটিত দুটি যুদ্ধ ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিল—প্রথমটি ইরাকের মাটিতে সংঘটিত ‘কাদিসিয়ার যুদ্ধ’; আর দ্বিতীয়টি ইরানের পাহাড়ি প্রান্তরের ‘নাহাওয়ান্দ’।
খলিফা ওমরের আমলে সংঘটিত দুটি যুদ্ধ ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিল—প্রথমটি ইরাকের মাটিতে সংঘটিত ‘কাদিসিয়ার যুদ্ধ’; আর দ্বিতীয়টি ইরানের পাহাড়ি প্রান্তরের ‘নাহাওয়ান্দ’।
‘উম্ম’ অর্থ মা। সাধারণত কারও কুনিয়াত ‘উম্মে অমুক’ হলে ধারণা করা হয়, অমুক তাঁর সন্তান। কিন্তু আয়েশা (রা.) আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইরের মা ছিলেন না, ছিলেন তাঁর খালা।
এই দশজনের জীবনযাত্রা একরকম ছিল না। দুনিয়ার চোখে তাঁদের অনেকেই ছিলেন সাধারণ নারী। কিন্তু আসমানে তাঁদের মর্যাদা ছিল অসাধারণ।
মক্কায় তখন জাহেলিয়াত। কাবাঘর ঘিরে প্রতিদিন নানা গোত্রের মানুষের আনাগোনা; আর জীবিকার তাগিদে কোরাইশের বাণিজ্য কাফেলা ছুটে যেত সুদূর সিরিয়ার পথে।
পাথরের ভারী জাঁতা ঘুরিয়ে যব পিষতে পিষতে তাঁর কোমল হাতে কড়া পড়ে গিয়েছিল; চামড়ার মশকভর্তি পানি বয়ে আনতে গিয়ে বুকে দাগ হয়ে গিয়েছিল।
মানুষ স্বাধীনভাবে জন্মেছে। আল্লাহ তাকে ভালো ও মন্দের পথ চেনাতে সক্ষম করেছেন। তাই ইসলামে মানুষের ওপর কোনো জোরজবরদস্তি নেই। এটিই ইসলামের মূল বাণী।
এমনকি আবু বকরের নিজের যোগ্য সন্তানেরাও তখন মদিনায় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের পরিবার কিংবা গোত্রের কাউকে উত্তরাধিকারী করার কথা ভাবেননি।
রাসুল (সা.) মসজিদে প্রবেশ করে বন্দীর দিকে তাকাতেই তাঁকে চিনতে পারলেন। তিনি সাহাবিদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা কি জানো, কাকে বন্দী করে এনেছ?’
আবু বকর (রা.) রোগশয্যায় উপলব্ধি করেছিলেন যে তাঁর সময় ফুরিয়ে আসছে। চাইছিলেন নেতৃত্ব নিয়ে যাতে মুসলিমদের মাঝে নতুন করে অনৈক্য তৈরি না হয়।
তিনি ছিলেন মদিনার বনু সালামা গোত্রের প্রধান। অত্যন্ত দানশীল, প্রভাবশালী ও সমাজে সর্বজনশ্রদ্ধেয় এক ব্যক্তি। তবে একটি পা জন্মগতভাবেই কিছুটা দুর্বল।
সাহাবি খোবাইব ইবনে আদি (রা.)-এর শাহাদতের ঘটনা থেকে ইমান, নবীপ্রেম, ধৈর্য ও দাওয়াতের পথে আত্মত্যাগের শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে।
উম্মতের জন্য তাঁর হৃদয়ে মমতা, ব্যাকুলতা ও গভীর দরদ ছিল। সামান্য কষ্টে তিনি ব্যথিত হতেন, উম্মত যাতে দোজখের আগুন থেকে রক্ষা পায়, সে জন্য তিনি ব্যাকুল থাকতেন।
তাঁর উপাধি ছিল ‘জাওজাতুশ শুহাদা’। বিভিন্ন সময়ে তাঁর পাঁচটি বিবাহ হয় এবং তাঁর পাঁচজন স্বামীই ছিলেন শীর্ষস্থানীয় সাহাবি, যাঁরা প্রত্যেকেই শাহাদতের মর্যাদা লাভ করেছিলেন।
জুলাইবিব নামের এক অখ্যাত সাহাবির বিয়ে কীভাবে নবীজির মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হয়—এ ইতিহাস মুসনাদে আহমাদ ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত।
সাহাবিদের জীবন বিশ্লেষণ করলে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য নজর কাড়ে, তা হলো—তাঁদের অপ্রতিরোধ্য জ্ঞানপিপাসা ও সত্য অনুসন্ধানের আকুলতা। তাই তাঁরা প্রচুর প্রশ্ন করতেন।
তাঁদের অর্জিত বিপুল ধনসম্পদ কখনো ব্যক্তিগত ভোগবিলাস বা ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়নি; বরং তা ব্যবহৃত হয়েছে সমাজকল্যাণ, মানবিক পুনর্বণ্টন এবং রাষ্ট্রীয় সংকট নিরসনে।
পিতার শেকলে বন্দি থেকেও দুই ভাইয়ের ধর্মীয় দায়বোধ ও সংগ্রামের নানা পর্যায়—বদর, হোদাইবিয়া ও মক্কা বিজয়ের প্রেক্ষাপটে বর্ণিত।
তিনি উটের পিঠ থেকে নামার উদ্যোগ করতেই আলী ও আবু লুবাবার বুক কেঁপে উঠল। মরুভূমির তপ্ত বালুতে নবীজি হাঁটবেন, আর তাঁরা উটের পিঠে আরাম করবে?
যুদ্ধবন্দীর সন্তান হিসেবে মদিনায় জন্ম নেওয়া হাসান বসরি (রহ.) কীভাবে তাঁর জ্ঞান, তাকওয়া এবং সাহাবিদের সান্নিধ্যে তাবেয়ি যুগের শ্রেষ্ঠ মনীষী ও জাতির বিবেকে পরিণত হলেন, তার জীবনচরিত।
খলিফা ওমর (রা.) তাকে সামনে ডেকে আনলেন। পারস্য সম্রাটের সেই ভারী স্বর্ণের জামা, মাথায় রত্নখচিত মুকুট এবং হাতে কিসরার ঐতিহাসিক দুটি স্বর্ণবালা সুরাকাকে পরিয়ে দেওয়া হলো।
মদিনা ছিল একটা উর্বর মরূদ্যান, যেখানে খেজুরবাগান ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি একটি নতুন জনগোষ্ঠীকে খাদ্য-নিরাপত্তা দেওয়ার সামর্থ্য রাখত। যা মক্কার শুষ্ক, বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতিতে ছিল না।
সৌদি আরবের তায়েফ শহরে আজও দাঁড়িয়ে আছে একটা ছোট্ট, শ্বেতশুভ্র মসজিদ। মসজিদটি একটি ইট-পাথরের স্থাপনা মনে হলেও ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক সফরের স্মারকও বটে।
ওমরের মতো একজন দূরদর্শী, নিষ্ঠাবান সাহাবিও যখন তাৎক্ষণিক প্রজ্ঞা ধরতে হিমশিম খেয়েছিলেন, তখন উম্মে সালামার পরামর্শের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়।
একবার নবীজির কাছে এক সাহাবি এলেন নামাজের ওয়াক্ত জানতে। সাহাবিকে নবীজি মৌখিক উত্তর দিলেন না। যেতেও দিলেন না সেদিন। নিজের কাছে রেখে দিলেন দুই দিন।