কৌশলের বেড়াজাল ভেঙে টিকিটাকার জয়
২০২৬ বিশ্বকাপের রোবোটিক ফুটবল এবং ডেটা অ্যানালিটিকসের ভিড়ে স্পেনের আধুনিক টিকিটাকার জয় কীভাবে ফুটবলের চিরন্তন আনন্দ ও মানবিকতাকে ফিরিয়ে আনল, তা নিয়ে এক বিশ্লেষণ।
২০২৬ বিশ্বকাপের রোবোটিক ফুটবল এবং ডেটা অ্যানালিটিকসের ভিড়ে স্পেনের আধুনিক টিকিটাকার জয় কীভাবে ফুটবলের চিরন্তন আনন্দ ও মানবিকতাকে ফিরিয়ে আনল, তা নিয়ে এক বিশ্লেষণ।
কনক, তাসনিয়া সারওয়াত হুদা, আমাদের তাসনিয়া মিস, আমাদের ওয়ান অ্যান্ড অনলি বোন। সে আমাদের ছোট বোন। আমাদের ভাইবোনদের ভেতর সবচেয়ে বেশি মেধাবী। কারণ, আম্মার উদ্ভট আর জটিল প্রত্যাশার সমাধান একমাত্র সে-ই করতে পারে।
বিকেলে কাঠমান্ডুর কায়সার মহলের ‘গার্ডেন অব ড্রিমস’ বাগানে সূর্যনাথ কৈরালার অপেক্ষা থেকে শুরু করে প্রাসাদের লাইব্রেরি ও পাণ্ডুলিপি খোঁজের নানা পর্যায় নিয়ে লেখা প্রতিবেদন।
মাহবুব উল হক একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন; কৈশোরে উপমহাদেশের বিভাজনের ভয়াবহ অস্থিরতা ও গণহত্যার সাক্ষী হয়েছিলেন; এবং এমন এক সময়ে বেড়ে উঠেছিলেন, যখন সদ্য স্বাধীন দেশগুলো নানা দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল।
যেদিন আমরা কাপ জিতলাম, আমার মনে আছে, সে রাতে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমার প্রেমিকার সঙ্গে ও তার বিরুদ্ধে যে খেলাটা খেলছি সেটা ক্লান্তিকর অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে, খেলাটায় আমরা এরই মধ্যে হেরে গেছি।
ফুটবল নিয়ে স্মৃতিচারণা ও পর্যবেক্ষণ—একজন লেখকের ছেলেবেলার বৃষ্টিস্নাত খেলা থেকে বিশ্বকাপের আধুনিকতা, গণতন্ত্র-সমতা-ব্যবসার টানাপড়েন পর্যন্ত।
কুষ্টিয়ার ‘স্নেহময়ী’ বাড়িতে বই খোলা রাখা নিয়ে ভূতের কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান শিক্ষক তাসনিয়া সারওয়াত হুদা।
বাংলাদেশের সঙ্গে আর্জেন্টিনার সম্পর্কটি বেশ রহস্যময়।
কেন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে স্মরণ করা হয় হাবিব আল-আজামিকে? তাঁর জীবন, তওবা, সাধনা ও সুফি ঐতিহ্যের এক অনবদ্য বর্ণনা।
নৈতিক পক্ষ-বিপক্ষের কারণেও, কেউ কেউ শহীদুল জহিরের লেখ্যশিল্পকর্মের প্রাপ্য মান্যতা দিতে নারাজ। অথচ, সময়ের অগ্রসর পাঠক ক্রমশ শহীদুল জহিরের আখ্যানে বুঁদ হয়ে উঠছেন। অনূদিত শহীদুল জহির বহির্বিশ্বের অন্য ভাষার পাঠকের মুখোমুখি ছড়িয়ে পড়ছেন তাঁর রচনার শক্তিতেই। বাংলা ভাষায় শহীদুল জহিরের চেয়ে শক্তিশালী লেখক এই মুহূর্তে হাজির করতে পারবে কেউ বা হরেদরে গল্প-উপন্যাস লিখিয়েরাও কেউ কি শহীদুল জহিরের মতো গদ্যভাষাকে নিজের আয়ত্বে এনে ব্যবহার করতে পারার ক্ষমতায় পৌঁছেছেন? পারলে এটা পেরেই দেখাতে হবে। বয়ানের মহাজনী ও যুগপত ফাঁপা বাগাড়ম্বর নয়, এটা করে দেখাবার, লিখে দেখাবার প্রশ্ন। বাংলা ভাষায়, সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে প্রভাবশালী কথাসাহিত্যিক শহীদুল জহির—এই বাক্যকে অস্বীকার করবেন, এমন কী আছে কার ঝুলিতে?
আক্কা মহাদেবী যে রাজকীয় বস্ত্র ও অলংকার ত্যাগ করে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে যান এবং তাঁর দীর্ঘ কেশই ছিল একমাত্র আবরণ; এ নগ্নতা ছিল জাগতিক মোহ, সামাজিক লজ্জা ও পুরুষতান্ত্রিক কর্তৃত্ব থেকে মুক্তির শক্তিশালী প্রতীক। তাঁর এ পথ ছিল প্রচলিত সামাজিক ও ধার্মিক কাঠামোর প্রতি এক চ্যালেঞ্জ। তিনি ভিক্ষার অন্নে জীবন ধারণ করতেন এবং ভাঙা মন্দিরে রাত কাটাতেন। এভাবে তিনি ইন্দ্রিয়তৃপ্তি ও বৈষয়িক বন্ধন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতেন।
শিল্পের সবচেয়ে বড় শত্রু সমালোচনা নয়, বরং আত্মতুষ্টি। ফুটবলের মাঠেও এই সত্যটি বারবার ফিরে আসে, যেখানে অতীতের গৌরব বর্তমানের লড়াইকে সহজ করে দেয় না।
লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৬ সালের ৭ জুলাই মুক্তকণ্ঠের ‘সাহিত্য সাময়িকী’তে। আজ প্রথমবারের মতো ‘অন্য আলো’র অনলাইন পাঠকের জন্য উপস্থাপন করা হলো।
অ্যাটেনডেন্ট কেবিনে পেশেন্টের কাছে ফিরে গেলেন। গিয়ে দেখেন হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে পেশেন্ট বিছানায় শুয়ে আছে। তিনি বুঝতে পারলেন না একই সময়ে একজন মানুষ দুই জায়গায় কীভাবে থাকে! আমরা শুধু জানতে পারলাম অ্যাটেনডেন্ট অজ্ঞান হয়ে গালিবের বেডের পাশে ফ্লোরে পড়ে আছেন। ঘটনা জেনেছি তার জ্ঞান ফেরার পর।
মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও তার ভাবাদর্শ অবলম্বন করে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ও ‘শিখা’ পত্রিকা প্রকাশের শত বছর পূর্ণ হলো ২০২৬ সালে। পাশাপাশি অধ্যাপক আবুল ফজলের জন্মদিন ছিল ১ জুলাই। এ উপলক্ষে তাঁর পুত্রের স্মৃতিচারণা।
১৯৯৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ। জুলাই মাসের এক ভোর। টাইব্রেকারের শেষ শটটি জালে জড়াতেই হৃদপুর বন্দরের রাস্তায় নেমেছিল ব্রাজিল ফুটবল উৎসব। মিছিলটা বেরিয়েছিল তৈবরদার বাড়ির সামনে থেকে। সামনে তবারক কাকু। পরনে ক্যানারি হলুদ জার্সি। হাঁটু পর্যন্ত হাফপ্যান্ট। পায়ে ফুটবল বুট। দুই হাতে বুকের কাছে আগলে রাখা একটি ফুটবল। দেখে মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপটা রোমারিও নয়, তিনিই জিতে ফিরেছেন।
বিচারপতি পালের রায়ের তাৎক্ষণিক প্রভাব আদালতে সীমিত হলেও দীর্ঘ মেয়াদে এর প্রতিক্রিয়া ছিল সুদূরপ্রসারী। ১৯৫২—১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের ‘ইন্টারন্যাশনাল ল কমিশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর রায়ই প্রথমবারের মতো বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছিল—যুদ্ধাপরাধের বিচারে একটি স্থায়ী, নিরপেক্ষ ও সুসংগত আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামো দরকার। এই উপলব্ধি থেকেই পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ধারণা বিকশিত হয়।
সে একদিন গেছে বটে। বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা। টক-ঝাল-মিষ্টি। আরও কত স্বাদের! আমি আর মসিহউদ্দিন শাকের মিলে সূর্য দীঘল বাড়ীর স্ক্রিপ্ট জমা দিলাম ১৯৭৬ সালে। সরকারি অনুদান পেলাম ১৯৭৭ সালে মাত্র আড়াই লাখ টাকা। নগদ তুললাম ৫০ হাজার। শাকের ইঞ্জিনিয়ারগিরি ছেড়ে দিয়ে তার শ্বশুরের প্রভিডেন্ট ফান্ডের ৪০ হাজার টাকা আনল। আমি মোল্লা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে অ্যাকাউন্ট্যান্টের ফুলটাইম চাকরি ছেড়ে পার্টটাইম হলাম; উপরন্তু অফিস থেকে ১৮ হাজার টাকা অগ্রিম তুলে এনে দুজন মিলে আদাজল খেয়ে লেগে পড়লাম।
ক্যামেরুনের পক্ষে ডেভিড এম্বে গোল দিয়েছেন। আব্বা পান চিবুতে চিবুতে প্রবল উত্তেজনায় মাথা ঝাঁকিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে মাথা জোরে টান দিয়ে চিৎকার করে বললেন, ‘গোওওওওওও।’ আব্বার মুখ থেকে পুরো ঘরে ফোয়ারার মতো পানের তুষ ছড়িয়ে পড়ল। আব্বার তুমুল আনন্দে আমাদের খেলা দেখা সহজ হয়ে গেল। আমরা সবাই একসঙ্গে গলা ছেড়ে চেঁচিয়ে উঠলাম, ‘গোওওওওওওল।’
জর্জ অরওয়েল (২৫ জুন ১৯০৩—২১ জানুয়ারি ১৯৫০) তাঁর দুটি কাজের জন্য বিখ্যাত। একটি রূপকাশ্রয়ী উপন্যাস অ্যানিমেল ফার্ম। এটি স্তালিনবাদের সিস্টেমের বিরুদ্ধে লেখা। অন্যটি ডিস্টোপিয়ান উপন্যাস নাইনটিন এইটি ফোর। এ দুটি উপন্যাসেই লেখক ক্ষমতাবানদের প্রশ্ন করেছেন ও দেখিয়েছেন ‘ক্ষমতা’ কীভাবে নিপীড়ক সংস্থার হয়ে কাজ করে। ক্ষমতাবান (বিগ ব্রাদার বা বড় ভাই) কীভাবে নজরদারিতে রাখে সাধারণ মানুষকে শাসন করার জন্য।
ফুটবল বিশ্বকাপ বা বড় কোনো টুর্নামেন্ট এলেই এই ঘটনাটা মনে পড়ে। একা একা হাসি। আবার একই সঙ্গে একধরনের ধূসরতা ছুঁয়ে যায়। হাজার হাজার মাইল দূরের একটা দেশের হারে আমার দেশের মানুষের এত উন্মাদনা হয় কী করে?
দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতাব্দীর মরমি কবি ফরিদ উদ্দিন আত্তারের ‘তাজকিরাত আল-আউলিয়া’ ফারসি ভাষায় রচিত সুফিদের জীবনীভিত্তিক একটি আকরগ্রন্থ। বাংলায় এর আক্ষরিক অর্থ ‘সাধুদের জীবনী’। মূল বইটির পরিসর অনেক বিস্তৃত; কিন্তু ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ এবং তাসাউফ ও ফারসি সাহিত্যের পণ্ডিত এ জে আরবেরি (১৯০৫-১৯৬৯) বইটির একটি অ্যাব্রিজড বা সংক্ষিপ্ত ভার্সন প্রকাশ করেছেন। ২০০০ সালে ইংরেজি ভাষায় এটি ‘মুসলিম সেইন্টস অ্যান্ড মিস্টিকস’ নামে বের হয়। বইটিতে ৩৮টি অধ্যায়ে ভাগ করে সুফি সাধক ও তাঁদের জীবনের নানা অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ করেছেন আরবেরি। এর একটি অধ্যায় সিজিস্তান বা বর্তমান আফগানিস্তানসংলগ্ন অঞ্চলের অধিবাসী প্রখ্যাত সুফি সাধক মালেক ইবনে দিনারের নামে।
একদিকে ধনকুবেরের বিলাসী জীবন, অন্যদিকে চে গুয়েভারার বিপ্লবের স্বপ্ন সাকার করার আকাঙ্ক্ষা। এক হাতে বিশ্বে তোলপাড় ফেলে দেওয়া বইয়ের পাণ্ডুলিপি, অন্য হাতে ‘অস্ত্র’। গত শতকের ইউরোপীয় ইতিহাসে জিয়ানজিয়াকোমো ফেলত্রিনেল্লির (Giangiacomo Feltrinelli) চেয়ে রহস্যময় ও বৈপরীত্যে ভরা চরিত্র কি আছে?
মহান ইচক দুয়েন্দে টিয়াদুরে সৃষ্টিজগতের এমন এক প্রবণতার বিমূর্ত ও মূর্তের মিশ্র চিত্র গড়েছেন, যা মানুষের কৃত্রিম শ্রেষ্ঠত্ববাদকে চ্যালেঞ্জ করে। মানুষ কেবল অপরাপর প্রাণ-প্রকৃতি হন্তারকই হয়ে ওঠেনি, এমনকি স্বজাতিকেন্দ্রিকতাও বজায় রাখতে পারেনি, লিপ্ত হয়েছে পরস্পরবিরুদ্ধ চিন্তা ও কার্যক্রমের অর্থহীন লড়াইয়ে, যা সমস্ত ভিন্ন ভিন্ন প্রাণসত্তার বৃহত্তর সম্পর্কজাল বিক্ষত ও ছিন্ন করে।