বিউটি পাল। গুণী শিক্ষক
বিউটি পাল সাইবার হয়রানির শিকার হওয়ার পরপরই তাঁর সহকর্মী ও দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকেরা তাঁর সঙ্গে সংহতি জানাতে শুরু করেন।
বিউটি পাল সাইবার হয়রানির শিকার হওয়ার পরপরই তাঁর সহকর্মী ও দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকেরা তাঁর সঙ্গে সংহতি জানাতে শুরু করেন।
অতীতকে ওভারটেক করে বা ছাড়িয়ে এগোতে হয়—সামনে তাকাতে হয় আমাদের। সেভাবেই ৬ নম্বর রুটের বাসকেও ভুলে যাচ্ছি আমরা। কেবল মাঝেসাঝে স্মৃতিকাতর করবে ‘প্রেমের গপ্পো’।
ইথিওপিয়ার দক্ষিণে ওমো ভ্যালি—দুর্গম এক জনপদ, যেখানে আজও নিজস্ব সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের ধারায় টিকে আছে হামার জনগোষ্ঠী। সেই জনপদে বিয়ের উৎসব দেখতে গিয়ে লেখক প্রত্যক্ষ করেছেন তাদের নানা আচার, সাজসজ্জা, নাচ ও বুল জাম্পিংয়ের আয়োজন। বিশ্ব পর্যটন দিবসে তুলে ধরা হলো ভিন্ন এক ভূগোলের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির কাছাকাছি যাওয়ার এই ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা।
এলিয়টের জীবনের আরেকটি জটিল অধ্যায় এমিলি হেলকে ঘিরে। তাঁদের পরিচয় ১৯১০-এর দশকের গোড়ায়। পরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। ১৯৩০ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত এলিয়ট হেলকে এক হাজারের বেশি চিঠি লিখেছিলেন। ২০২০ সালে সেই চিঠিগুলো গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত হলে সাহিত্যজগতে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।
জাপানি আলোকচিত্রী হিরোশি সুগিমোতোর কাজের অন্যতম প্রধান বিষয় সময়, স্মৃতি, দৃশ্যমানতা এবং আলোকচিত্রের প্রকৃতি নিয়ে এক গভীর দার্শনিক অনুসন্ধান। তাঁর ছবিতে থাকে সমৃদ্ধ সাদা-কালো টোন ও দীর্ঘ এক্সপোজার।
ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের ওমো ভ্যালিতে মুরসি নৃগোষ্ঠীর গ্রামে গিয়েছিলেন লেখক। বিচ্ছিন্ন এই জনপদে এখনো টিকে আছে কৃষি, পশুপালন ও নিজস্ব সংস্কৃতিনির্ভর জীবনযাপন। মুরসিদের ঘরবাড়ি, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক-অলংকার, বিশ্বাস ও দৈনন্দিন জীবনের নানা অনুষঙ্গের মধ্য দিয়ে লেখকের চোখে ধরা পড়েছে এক ভিন্ন জগত।
ধান নষ্ট হলে আমরা দেখি। বন্যায় রাস্তা ভাঙলে দেখি। একটি কারখানা বন্ধ থাকলে তার মরচে পড়া গেটটিও দেখা যায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার আলোকচিত্রী সান্তু মোফোকেংয়ের ‘চেসিং শ্যাডোস’ একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্র সিরিজ। পোস্ট-অ্যাপার্টহেইড বলতে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক অবসানের পরবর্তী সময়কালকে বোঝায়। ‘চেসিং শ্যাডোস’ সেই সময়ের ধর্মীয় আচার, পবিত্র ভূদৃশ্য এবং বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের পারস্পরিক মেলবন্ধন। একই সঙ্গে সিরিজটি দক্ষিণ আফ্রিকার আধ্যাত্মিক জীবনকে গভীরভাবে অনুসন্ধান করে।
পুতুল নাচিয়ে তিনি শুধু শিশুদের হাসাননি, কথা বলেছেন সময় ও সমাজেরও। কার্টুন থেকে পাপেট, টেলিভিশন থেকে মুক্তিযুদ্ধ—শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের ৯১ বছরের জীবন যেন বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির এক চলমান ইতিহাস। জন্মদিনে ফিরে দেখা তাঁর বহুমাত্রিক শিল্পজীবন।
‘পেন বাংলাদেশ’র আয়োজনে ফারুক মঈনউদ্দীনের জীবন ও সাহিত্যিক উত্তরাধিকার নিয়ে ধানমন্ডিতে সন্ধ্যার আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর ভ্রমণগদ্য, অনুবাদ ও গল্পসত্তার নানা দিক।
জোনাস সাল্ক পোলিও টিকার সাফল্যের পর চিকিৎসাবিজ্ঞানের নানা শাখায় গবেষণার জন্য একটি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে স্থপতি লুই কানকে সম্পৃক্ত করা হয়। সান দিয়েগোর লা জোলা এলাকায় গড়ে ওঠা সাল্ক ইনস্টিটিউটের ভাবনা ও স্থাপত্য নিয়ে উৎসাহব্যঞ্জক বর্ণনা—সব মিলিয়ে বিজ্ঞান, মানবিকতা ও আধ্যাত্মিকতার এক মিলনভূমির ছবি।
জনাবাই এমন এক নারী, যিনি ভক্তি আন্দোলনের গভীরতম স্রোতে দাঁড়িয়ে থাকা এক শক্তিশালী সত্তা। দাসত্বের জীবনে থেকেও কবিতা, ঈশ্বরপ্রেম আর মানবসমতা—এই তিনটিকে তিনি অনুপমভাবে মিলিয়েছেন। জনাবাইয়ের জীবন ও কবিতা নারী, নিম্নবর্ণ ও শোষিত মানুষের আধ্যাত্মিক মুক্তি এবং সামাজিক প্রতিবাদের এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হয়ে শত শত বছর ধরে জীবন্ত রয়েছে।
চায়ের দোকান থেকে করপোরেট অফিস ও মেট্রোরেল—সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে ‘পাতার বাঁশরি’। ইউটিউবে ২৫ জুলাই প্রকাশের পর ১০ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভিউ প্রায় ২৭ মিলিয়ন এবং মন্তব্য প্রায় ১৪ হাজার। গানটির লিরিকস, বাঁশির সুর, দৃশ্যায়ন ও কণ্ঠশৈলীর নানা দিক নিয়ে শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যের ভিত্তিতেই উঠে এসেছে আলোচনা।
শিল্পের ইতিহাসে এমন কিছু সৃষ্টি রয়েছে, যেগুলো দর্শককে মুগ্ধ করার পরিবর্তে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়। আমেরিকান আলোকচিত্রী আন্দ্রেস সেরানোর ১৯৮৭ সালে নির্মিত আলোকচিত্র ‘ইমার্শন (পিস ক্রাইস্ট)’ সেই বিরল শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম।
দীপু মাহমুদের মুক্তগদ্য ‘আরও তাসনিয়া মিস, সঙ্গে জেনিফার মিস ফ্রি’
১৯৫৯ সালের শুরুর দিনগুলোতে খবরের কাগজ, রেডিওর ধারাভাষ্য আর মাঠের খেলায় বড় হওয়া দুই কিশোরের ক্রিকেটপ্রেম কীভাবে গ্যারি সোবার্সের জয়যাত্রায় আরও গভীর হয়ে ওঠে—সেই স্মৃতির ভেতর দিয়েই বর্ণনা।
এই প্রবন্ধে গালিগালাজকে নৈতিক বিচ্যুতি হিসেবে নয়; বরং ভাষা, ক্ষমতা ও সংস্কৃতির আন্তসম্পর্কের একটি জটিল সাংস্কৃতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। মিশেল ফুকোর জ্ঞান-ক্ষমতা তত্ত্ব আমাদের দেখায় কীভাবে রাষ্ট্র, ধর্ম ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান ভাষার বৈধতা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ‘অশ্লীলতা’ নির্মাণ করে।
ইরানি আলোকচিত্রী হেঙ্গামেহ গোলেস্তানের আলোকচিত্রগুচ্ছ ‘উইটনেস ৭৯’ সেই বিরল দলিলগুলোর একটি, যা কেবল কয়েকটি প্রতিবাদ-সমাবেশের ছবি নয়; বরং আধুনিক ইরানের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এমন এক সন্ধিক্ষণকে ধারণ করে, যখন রাষ্ট্র, বিপ্লব এবং নারীর স্বাধীনতা—এই তিনটি শক্তি মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যায়।
পদার্থবিদদের মধ্যে যাঁরা চিত্রকর্ম ভালোবাসেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে ভেবেছেন। যত সময় যাচ্ছে, ততই তাঁরা পদার্থবিজ্ঞানের আলোকে তাঁর শিল্পকর্মকে দেখার চেষ্টা করেও কোনো মীমাংসায় পৌঁছাতে পারছেন না।
নিজের কাজের ওপর বিশ্বাস রাখা জরুরি। আমরা হয়তো ভবিষ্যৎ দেখতে পারি না, কিন্তু আমাদের কাছে “অতীত” আছে। সেই অতীত আমাদের কাজের নানা ধরন, মডেল, তুলনামূলক ধারণা, নীতি ও অনুপ্রেরণার রসদ দেয়।
মনজুর আলম বেগের ‘ফটোগ্রাফি ডাইজেস্ট’ বইয়ের প্রচ্ছদে থাকা একটি সাদাকালো ছবির মাধ্যমে ফুটে উঠেছে স্বাধীনতার পরবর্তী ঢাকার রূপ এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রাম।
জোসেফ মেরি প্লাঙ্কেটের রাজনৈতিক দর্শন ছিল আইরিশ প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, যা ব্রিটিশ শাসন থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হবে। তিনি আইরিশ ভলান্টিয়ার্স ও আইরিশ রিপাবলিকান ব্রাদারহুডের (আইআরবি) সদস্য হন। ১৯১৬ সালের ৪ মে প্লাঙ্কেটকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
১৯৫২ সালে ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ প্রকাশিত হলে তিনি আবার পাঠকদৃষ্টিতে চলে আসেন। এ উপন্যাস প্রকাশের পর ১৯৫৩ সালে তাঁকে পুলিৎজার পুরস্কার দেওয়া হয় এবং পরের বছরই তিনি নোবেল পুরস্কার পান।
হুমায়ূনের লেখাতেই প্রথমবারের মতো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফুটে উঠেছে পূর্ব বাংলার নিজস্ব ভাষাভঙ্গি ও কালচার। আধুনিক বাংলা সাহিত্য তৈরি হয়েছে কলকাতার বর্ণহিন্দুদের হাতে। ভাগীরথীতীরের ভাষাটি নগরকেন্দ্রিক বর্ণহিন্দুদের মুখের ভাষা। এই ভাষার পরিশীলিত ও প্রমিত রূপ গত দেড় শ বছর আধুনিক বাংলা গদ্যের বাহনরূপে চর্চিত। পূর্ব বাংলার মানুষ এই ঘটি বাংলাকে কখনো আত্মস্থ করতে সক্ষম হয়নি।