আড়িয়ল বিলে পাকা ধান ভাসছে পানিতে, শ্রমিকসংকটে কৃষকদের চরম বিপর্যয়
দোহার ও নবাবগঞ্জের আড়িয়ল বিলে বৃষ্টির পানিতে পাকা ধান ভাসছে। শ্রমিকসংকট ও চড়া মজুরিতে সময়মতো ফসল কাটতে পারছেন না কৃষকেরা। ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কায় তাঁরা চিন্তিত।
দোহার ও নবাবগঞ্জের আড়িয়ল বিলে বৃষ্টির পানিতে পাকা ধান ভাসছে। শ্রমিকসংকট ও চড়া মজুরিতে সময়মতো ফসল কাটতে পারছেন না কৃষকেরা। ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কায় তাঁরা চিন্তিত।
রাজধানীতে সোমবার ৩ ঘণ্টায় ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ায় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবীর জানান, মঙ্গলবার বৃষ্টি কমলেও বুধবার থেকে রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেটে বৃষ্টি বাড়তে পারে। এর প্রভাব ঢাকায়ও পড়তে পারে।
মৌলভীবাজারের রাজনগরের কাশিমপুরে অসময়ের পানিতে হাজার হাজার কিয়ার ধান তলিয়ে গেছে। কৃষক ইয়াওর মিয়া বলছেন, ‘যেগুলো ধান পেয়েছি, আজ খেতাম না ঋণ দিতাম।’ সারা বছরের খোরাকি ও আয়ের আশা এখন হাহাকারে পরিণত হয়েছে।
এপ্রিল-মে মাসে বেরসিক বৃষ্টিতে হাওরের বোরো ধানকাটায় বিপর্যয়। চাষীরা কাটতে-শুকাতে পারছেন না, শ্রমিক অভাবে ক্ষতি বাড়ছে। হাওর ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য নষ্ট, দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের প্রয়োজন।
বৃষ্টির কারণে কিশোরগঞ্জের কৃষকেরা ধান কাটতে ও শুকাতে সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগ ধান গজিয়েছে বা পচে গেছে।
স্বতন্ত্র ঘ্রাণ থেকে শুরু করে বৃষ্টির পানি থেকে নির্গত আয়ন আমাদের শরীরের ওপর বেশ কিছু প্রভাব ফেলে থাকে।
নেত্রকোনায় টানা বৃষ্টির পর রোদ ওঠায় কৃষকেরা স্বস্তি পেয়েছেন। তাঁরা ধান শুকাতে ও কাটতে পারছেন।
বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে ১৫-২০ দিন আগেই মাঠের ধান কেটে নিচ্ছেন কক্সবাজারের চাষিরা
তিন ধরনের ‘বন্যা’ হয় হাওরে। উকিল মুন্সীর গানের মতো ‘আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি’ সাধারণ ঋতুভিত্তিক বন্যা।
আগে হাওরের বাঁধ ভেঙে ধান নষ্ট হতো। এবার হঠাৎ বৃষ্টিতে, জলাবদ্ধতায়। তরমুজ, মুগ ডাল, বাদাম ও সূর্যমুখীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জসিম উদ্দিন নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। গত বুধবার তুফানে ঘর হারিয়েছেন তিনি। এর পর থেকেই তিনি স্ত্রী–সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে ছোট্ট ছাউনিতে থাকছেন।
‘জমির ধান গেল পানিতে, এখন খলার (কাটার পর স্তূপ করে রাখা) ধান নষ্ট অইযায় রইদের ( রোদ) অভাবে।’
দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে আবারও পানিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ের রাস্তাঘাট। সড়ক উপচে পানি ঢুকেছে আশপাশের দোকানেও।
দেশের ছয় বিভাগের কিছু স্থানে আজ শনিবার ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে।
নেত্রকোনায় ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কংস নদের পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ১০ মিটার এবং উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেটসহ ছয় বিভাগে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।
বৃষ্টিতে ঢাকার গ্রিনরোড, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, জিগাতলা, পশ্চিম তেজতুরী বাজার, মালিবাগ, বংশালসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় পানি জমেছে।
চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সাময়িক পানিজট হয়েছিল।
ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি উজান থেকে আসা ঢলে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওরাঞ্চলে বিস্তৃত এলাকার ধানখেত তলিয়ে গেছে।
গত মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কথা জানায়।
‘পানি হু হু করে ঢুকেছে। ১০ মিনিটের মধ্যে বুকসমান পানি হয়ে যায় দোকানে। কিছুই বের করতে পারিনি। আমি পথে বসে গেলাম।’ কথাগুলো বলতে বলতে থেমে যান তানভির আহমেদ। চট্টগ্রাম নগরের প্রবর্তক এলাকায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে তাঁর ‘আয়াত সার্জিক্যাল’ নামের ওষুধের দোকানটি এখন পানির নিচে। তাঁর ধারণা, ক্ষতির পরিমাণ ৫০ লাখ টাকার বেশি।
খাগড়াছড়িতে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ফসলের ক্ষতি, দুশ্চিতায় কৃষক।
মৌলভীবাজারে টানা কয়েক দিনের হালকা ও ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অনেক স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন হাওরে পানি বেড়েছে।
৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে