রাজধানীতে ভ্যাপসা গরম, বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটুকু, জানাল আবহাওয়া অফিস
গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটেছে। আবার সক্রিয় আছে পশ্চিমা লঘুচাপ। এ দুইয়ের একটা ‘দ্বন্দ্ব’ এখন প্রকৃতিতে।
দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ, প্রভাব কতটুকু পড়বে
আগামী দুই থেকে তিন দিন তাপমাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক থাকতে পারে। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে।
তিনদিনের তাপপ্রবাহের পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টি হয়।
জাতিসংঘের সতর্কতায় বলা হয়েছে, আসন্ন এল নিনো বিশ্বব্যাপী তাপপ্রবাহ ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
জুন মাসে একাধিক তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস
আজ বাড়তে পারে তাপ
মে মাসের শুরু হয়েছিল বৃষ্টি দিয়ে। শেষটায় বৃষ্টি কমে তাপ বেড়েছে। তবে সব মিলিয়ে এ মাসে দীর্ঘ সময় ধরে ভ্যাপসা গরম পড়েনি।
বৃষ্টি নামলেই অনেক মানুষ বিরক্ত হয়। কেউ যানজটের কথা ভাবে, কেউ কাদা-পানির ঝামেলায় অসন্তুষ্ট হয়। অথচ একজন সচেতন মুমিনের দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত ভিন্ন।
ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়ি, গাবতলী ও উত্তর শাহজাহানপুর পশুর হাট ঘুরে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা যায়। বিপরীতে হাটে পর্যাপ্ত গরু দেখা গেছে।
টানা বৃষ্টি ও কাদাপানির মধ্যে মৌলভীবাজারের কোরবানির পশুর হাটে ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। শেষ মুহূর্তের হাটে ছোট গরুর চাহিদা থাকলেও বড় গরু বিক্রি নিয়ে হতাশ খামারি ও ব্যবসায়ীরা।
মৌসুমি বায়ু দেশে প্রবেশের আগের এ সময় প্রকৃতির ‘বেহিসাবি’ আচরণ চোখে পড়ছে। এটাকে এ সময়ের বৈশিষ্ট্য বলেই মনে করেন আবহাওয়াবিদেরা।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদের দিন বৃহস্পতিবার সকালেও থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে।’
মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক আজ প্রথম আলোকে বলেন, বৃষ্টির কারণ গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালার বিস্তার। এটা স্থানিক মেঘ। একটি নির্দিষ্ট স্থানে কিছু সময়ের জন্য বৃষ্টি ঘটায় এই মেঘ।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা। এখনো মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের ঢল থামেনি। রাতভর যানজটে নাকাল হওয়ার পর গাজীপুরে ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে সকালে কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থা ফিরেছে। তবে আজ বুধবার সকাল থেকে তুমুল বৃষ্টি যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল থেকে বাড়ির পথে ছুটছেন হাজারো পোশাকশ্রমিক। ঝোড়ো বৃষ্টি, কাদামাটি, যানজট ও বাড়তি ভাড়ার ভোগান্তি পেরিয়েও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার আনন্দে মুখর ঘরমুখী মানুষ।
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র তিন দিন বাকি। ঈদকে কেন্দ্র করে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে আজ সোমবার থেকে ধাপে ধাপে পোশাক কারখানার ছুটি শুরু হয়েছে। ফলে মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের উপস্থিতিতে গাড়ির চাপ বেড়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, বর্জ্য অপসারণে অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিতভাবে নালা নির্মাণের কারণে সামান্য বৃষ্টি হলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
আজ সন্ধ্যার পর থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবীর।
ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো দেশের মূল সাত মহাসড়কের ওপর পড়েছে। এ সড়কগুলো প্রায় সব বিভাগ–জেলাকে যুক্ত করেছে।
সকাল সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল সাড়ে নয়টায় তাপমাত্রা হয় ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সাত এলাকার নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে মাঝারি থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
নওগাঁ শহরে বুধবার দুপুরে এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই বিভিন্ন রাস্তায় গোড়ালি থেকে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পয়োবর্জ্য অপসারণে অব্যবস্থাপনা ও নির্মাণসামগ্রী সড়কে ফেলে রাখায় এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এতে তাঁদের দুর্ভোগ অসীম।